হাতিয়ায় ধ্বসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা বেড়ীবাঁধ স্বেচ্ছাশ্রমে রক্ষা করলেন স্থানীয়রা

নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নলচিরা ইউনিয়নের ফরাজি গ্রামে নতুন নির্মাণ করা বেড়ীবাঁধের অনেকাংশে পাটাল ধরে ধ্বসে পড়ার উপক্রম হয়। এই সংবাদ চড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন এসে অনেকটা স্বেচ্ছাশ্রমে ঝুঁকিতে থাকা বেড়ীবাঁধ মেরামতেরর কাজ শুরু করে। এসময় পাশেই ত্রান বিতরণে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসেনও এসে তাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়। বুধবার দুপুরে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে ধ্বসে পড়ার ঘটনাটি ঘটে ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেন বলেন অস্বাভাবিক জোয়ারে হাতিয়ার তিনটি ইউনিয়নের ৭কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। জোয়ারের উচ্চতা অনেক বেশী হওয়ায় অনেক জায়গায় ছিড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কিছু কিছু জায়াগায় এলাকার লোকজনের সহযোগীতায় মেরামত করা হয়েছে। তবে রাতের জোয়ারে এসব এলকায় বেড়ীবঁাদ ছিড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

জানাযায়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি ডুকে পড়েছে অন্তত ২০টি গ্রামে। পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে দ্বীপটির হাজার হাজার বাসিন্দা। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ ও জমির ফসল। বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ভাঙা বেড়ি বাঁধের পাশে থাকা বাসিন্দারা।

এসময় বেড়ীর বাহিরে ৫-৭ফুট উচ্চতায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় নতুন করে নির্মাণ করা বেড়ীবাধে ফাটাল দেখা দেয়। এর মধ্যে সোনাদিয়া ইউনিয়নের ফাইক বাজার এলাকায় বেড়ীবাঁধ ছিড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। তবে সূখচর ও নলচিরা ইউনিয়নের অনেক জায়গায় বেড়ীবাঁদ ছিড়ে যাওয়ার উপক্রম হলে এলাকা বাসী তা আবার সাথে সাথে মেরামত করে পেলে। অনেকে নিজেদের বাড়ী থেকে বাঁশ, বস্তা, দড়ী নিয়ে এসে কোনভাবে বেড়ীবাঁধ ধ্বসে পড়া থেকে রক্ষা করে।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে জোয়ারের সাথে উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ডুকতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে জোয়ার ও বাতাসের তীব্রতা বাড়তে থাকে। সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। মেঘনা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে আজ ৫-৬ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ডুকে পড়েছে। এতে ৪-৫ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে সুখচর, নলচিরা, চরঈশ্বর, সোনাদিয়া, হরণী, চানন্দী সহ নিঝুমদ্বীপের ২০টি গ্রাম।

জিল্লুর রহমান রাসেল/বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর