অবৈধপথে ইতালি যাত্রা: তিউনিশিয়ায় বন্দী মাদারীপুরের ২৯ জন

অবৈধপথে ইতালী যাওয়ার সময় ভুমধ্যসাগর নৌকাডুবির ঘটনায় মাদারীপুরের জীবিত উদ্ধার হওয়া ২৯ জন তিউনিশিয়ার বন্দি শিবিরে রয়েছে। তারা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের ফিরে পাওয়ার শঙ্কায় পরিবারগুলোর মাঝে বিরাজ করছে অনিশ্চিয়তা আর হতাশা। তবে তাদের দাবি উদ্ধার হওয়া ব্যাক্তিদের বিদেশেই যেন একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। এদিকে নৌকাডুবিতে মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের নয়াচর গ্রামের সেন্টু মন্ডল এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া পরিবারের সদস্যরা দাবি জানিয়ে বলেন, ধার-দেনা, বাড়িটা পর্যন্ত বিক্রি করে আমাদের ভাই, সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়েছি একটু ভাল থাকার জন্য। তাদের যেন বিদেশেই একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। না হলেও মরণ ছাড়া আমাদের কোন উপায় থাকবে না।

এলাকাবাসী বলেন, যেহেতু ঝুকি নিয়েই বিদেশে গেছে, তাই সরকারের উচিত উদ্ধার হওয়া ব্যাক্তিদের সেই দেশেই একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেয়া। অসহায় পরিবারগুলোর একটু হলেও সহযোগীতা হবে।

নিখোঁজ হওয়া সেন্টু মন্ডলের শশুড় আব্দুর রব বেপারী বার্তাবাজারকে জানান, আমার তিনটি নাতি, অনেক কষ্ট করে ধার দেনা করে সাড়ে ৭লাখ টাকা দিয়ে লিবিয়া দিয়ে ইতালী পাঠিয়েছিলাম। কিন্ত নৌকাডুবির ঘটনার পর থেকে তার কোন খোঁজ পাচ্ছি না।

মানবপাচারকারী মহাসিনের ফুফু রহিমা বার্তাবাজারকে বলেন, আমার ভাতিজা সবার কাছে আগেই বলে নিয়েছে সাগরের বিষয় আমি দেখবো না। এটা বলছে কিনা তাদের কাছে জেনে দেখেন। তাছাড়া মহাসিনও তো সেখানে উদ্ধার হয়েছে। তার মা ও পরিবার ঢাকা থাকে। মহাসিন অনেকদিন আগেই লিবিয়া গেছে।’

এ ব্যাপারে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল বার্তাবাজারকে বলেন, তিউনিশিয়ায় যে ৩৩ জন উদ্ধার হয়েছে, তাদের মধ্যে বেশীর ভাগ মাদারীপুরের। আমরা তদন্তের মাধ্যমে জানাতে পেরেছি মাদারীপুর জেলার ৩০জন। আর এর মধ্য ২৯জন জীবিত উদ্ধার হয়েছে এবং একজন নিখোঁজ রয়েছে। যারা অবৈধভাবে ইতালী নিয়ে যায় তাদের মধ্যে ৫জন মানবপাচারকারীকে আমরা সনাক্ত করতে পেরেছি। এই ৫জনের মধ্যে দুই জন লিবিয়াতে অবস্থান করছে এবং বাকি তিনজনকে ধরার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (১৬ মে) ৮৩জন অভিবাসন প্রত্যাশী লিবিয়ার যাওয়ারা উপকূল থেকে একটি নৌকায় অবৈধভাবে ভুমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপের ইতালী যাচ্ছিল। এ সময় উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ার উপকূলে গেলে ভুমধ্যসাগরে নৌকাটি ডুবে যায়। পরে তিউনিশিয়ার সেনাবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ৩৩ অভিবাসন প্রত্যাশীকে জীবিত উদ্ধার করে। তাদেরকে তিউনিশিয়ায় রাখা হয়েছে বলে উদ্ধারকৃতরা পরিবারের কাছে মোবাইলে জানায়। নৌকাডুবির ঘটনায় ৫০জন নিখোঁজ হয়। জীবিত উদ্ধার ৩৩জনই ছিল বাংলাদেশি। এর মধ্যে ২৩জনের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এবং বাকি ৭জনের বাড়ি মাদারীপুর জেলার রাজৈর ও শিবচর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। সদর উপজেলার ২৩জনের মধ্যে পেয়ারপুর নয়াচর গ্রামের ১৪জন রয়েছে। সবাই সাড়ে ৭লক্ষ টাকা দিয়ে মহাসিন নামে এক মানবপাচারকারীর মাধ্যমে ইতালী যাচ্ছিল। এছাড়া নৌকাডুবিতে নয়াচর একই গ্রামের সেন্টু মন্ডল এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর