সিরাজদিখানে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ৪ জন আহত, আটক ১০
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বেপরোয়া ভাবে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ৪জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আজ বুধবার হামলার সাথে জড়িত থাকা ১০জন কিশোরকে গ্রফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বেপরোয়া ভাবে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয় কিশোর গ্যাং ও ইছাপুরা এলাকার যুবকদের সাথে। এঘটনার জেরে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ইছাপুরা হাওলাদার বাড়ির মসজিদের সামনে কয়েকটি গ্রামের কিশোররা মিলে ইছাপুরা এলাকার যুবকদের উপর হামলা করে। এ ঘটনায় ১০জন কিশোরকে আটক করে নিয়ে আসে পুলিশ।
থানার অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর দেড় টার দিকে উপজেলার ইছাপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মো. জাহিদুল ইসলাম (১৭) ও তার সাথে থাকা ২০/২৫ জন খুব দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল। তাদেরকে আল-আমীন জোরে মটর সাইকেল চালাতে নিষেধ করলে তাদের মাঝে বাক বিতন্ডা হয়। তারই জেরে দুপুর দেড়টার দিকে মো. জাহিদুল ইসলাম (১৭) এর নেত্রীত্বে মো. সজিব (১৮), তরিকুল ইসলাম (১৭), শেখ তনিম কাউসার (১৭), মো. সাব্বির হোসেন (১৬), মো. নাফিজ শেখ (১৮), সিয়াম শেখ (১৭), সতেজ হাওলাদার (১৭), তিয়াত দাস (১৮) ও জিহাদ হাওলাদার (১৭) সহ ৩০/৩৫ জন এসে হাওলাদার বাড়ি মসজিদের সামনের পাকা রাস্তায় উপর হামলা চালিয়ে আল আমিন (২২), আশিক (২০), মারুফ (১৮) ও অপু (১৮)কে রক্তাক্ত জখম করে। তাদের কাছে থাকা ২টি মোবাইল ও নগদ ২৩৫০০ টাকা ছিনিয়ে নিলে তাদের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আসলে আসামীরা প্রাননাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এলাকাবাসীরা জানায়, কয়েকটি এলাকার কিশোররা এক সাথে হয়ে কিশোর গ্যাং পরিনত করেছে। এ গ্যাংয়ে রয়েছে ২০/২৫ জনের সক্রিয় সদস্য। এদের সবার বয়স ১৭ থেকে ২০ বছর। এরা দীর্ঘদিন যাবত স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে। বিভন্ন সময় তাদের আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে এলাকায় মাড়ামারি করে থাকে।
ভূক্তকভোগী শিহাব মোল্লা বলেন, জাহিদুলদের ২৫/৩০ জনের একটি দল তারা মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন সময় এলাকায় স্কুলের ছাত্রীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে। তারা কারো কোন কথাই শোনেনা। গতকাল জোরে মটসাইকেল চালাতে নিষেধ করায় ওদের সাথে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়া এলাকার বড়ভাইরে মিমাংসা করে দেয়। পরে দুপুরে আমরা নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার সময় ওরা আবার দলবেধে এসে আমাদের এসএস লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে।
এবিষয়ে সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বার্তাবাজারকে জানান, এই কিশোররা একটি সঙ্ঘবদ্ধ দল। তারা গতকালকে মোটরসাইকেল চালানো কে কেন্দ্র করে একটি মারামারির ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। আমরা ১০ জনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি। আর যারা পলাতক আছে তাদেরকে আটক করার জন্য সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছি। এছাড়া অভিভাবকদেরকে বলবো স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার এ সময় তাদের ছেলেমেয়েরা কে কোথায় যায় তার খোঁজখবর রাখতে। আর এই কিশোররা যাতে ৪/৫জন একসাথে না হয় এবং চলাচল যেন না করে। এজন্য অভিভাবকদের কে বিশেষভাবে গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।
মোঃ মিজানুর রহমান/বার্তাবাজার/ভিএস