করোনায় বিপর্যস্ত: অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তরুণ-যুবকরা

চলমান মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত জনজীবন। এই ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী এক বছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ স্কুল-কলেজ। পাশাপাশি অনেকেই কর্ম হারিয়ে ঘরবন্ধী জীবন যাপন করছে। আর এই দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকায় অভাবের তাড়নায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার তরুণ এবং যুবকরা জড়িয়ে পড়ছে নানাবিধ অপরাধ কার্যক্রমে।

অপরাধ সংগঠনে পিছিয়ে নেই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিষন্নতায় ভূগছে অধিকাংশ শিক্ষার্থী। বিভিন্ন অপরাধী ব্যক্তি এবং গ্যাং এর তৎপরতায় তারা জড়িয়ে পড়ছে অপরাধ কার্যক্রমে।

ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারী মাস থেকে চলতি মে মাস পর্যন্ত মাদক, ডাকাতি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আটক এবং গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশই উঠতি বয়সের তরুন এবং যুবক। এসব মামলার আসামীদের মধ্যে অনেকে আবার বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী।

সর্বশেষ গত ২২ মে মধ্যরাতে ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগে দেশীয় অস্ত্র এবং ডাকাতি কাজে ব্যবহারিত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ ৪ যুবককে আটক করেছিল পুলিশ। আটক যুবকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডাকাতি চেষ্টায় জড়িত মোট ১০ ব্যক্তির নামে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।

ওই মামলায় দশ আসামীর ছয় জন ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী যুবক। বাকি চার আসামী ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী। আবার ওই ছয় জনের তিন জনই দাখিল মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থী। বাকি তিন জনের দুজন করোনা ভাইরাস আসার রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কলকারখানায় কর্মরত ছিল।

পুলিশ বলছে, সিডিএমএস (ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) অনুযায়ী ওই ৬ যুবকের নামে পূর্বে কোন অপরাধ সংগঠনের প্রমান নেই। তারা এই প্রথম ডাকাতির মত বিপদজনক অপরাধে জড়িয়েছে। মামলার অপর চার আসামীর বিরুদ্ধে বিগত সময়ে অপরাধ সংগঠনের একাধিক মামলা রয়েছে।

মামলা এবং গ্রেপ্তারের বাহিরে গত ৫ মাসে উপজেলা জুড়ে বেশ কয়েকটি কিশোর সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় রক্তাক্ত হয়েছে অনেক শিক্ষার্থী। ইভটিজিং এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর এবং স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করছে।

গত ফেব্রুয়ারী মাসে ১৬ তারিখে ঘোড়াঘাট পৌর এলাকার নুরজাহানপুর অবঃ সামরিক কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে শিফাত ও আবির নামে নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া দুজন শিক্ষার্থী রক্তাক্ত এবং গুরুতর আহত হয়। আহত শিফাতের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল।

ঘোড়াঘাট পৌর নাগরিক কমিটির সাধারন সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কিশোর এবং যুবকরা অপরাধে জড়িয়ে যাওয়ার একমাত্র কারণ হতাশা। দীর্ঘ সময় লকডাউনে তারা নানাবিধ হতাশায় ভূগছেন। সরকার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউন দিয়ে আসছে। তবে লকডাউনের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে হবে।

করোনার প্রথম ধাপে সরকার জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। তবে বর্তমানে তা আর দৃশ্যমান না। দীর্ঘ সময় পর সার্বিক দিক বিবেচনায় সরকার যানবাহণ, লঞ্চ ও ট্রেন খুলে দিয়েছে। তবে এবার স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে আমাদের শিক্ষার্থীদের মনোবল একেবারে ভেঙ্গে যাবে।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, বিগত ৫ মাসে থানায় বিভিন্ন অপরাধের বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার ঘটনায় আসামী শনাক্ত করতে গিয়ে আমাদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামীদের অনেকেই যুবক। এমনও আসামী আমরা পেয়েছি, যারা পূর্বে কোন অপরাধ সংগঠন করেনি। এই প্রথম তারা বিভিন্ন অপরাধী ব্যক্তির সংস্পর্শে অপরাধে জড়িয়েছে।

বিশ্ব জুড়ে চলমান করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষায় লকডাউন চলছে। এই সময়ে সন্তানের উপর বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন অবিভাবদের। তাদের সন্তানেরা কার সাথে মিশছে, কি কাজ করছে তার উপর নজর দিতে হবে। সচেতনতাই পারে সন্তানকে অপরাধ থেকে রক্ষা করতে।

মোঃ লোটাস আহম্মেদ/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর