উপকূলে প্রাকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার নামই জীবন
উপকূলের মানুষের প্রাকৃতির সাথে টিকে থাকার যুদ্ধ যেনো থামছে না। কখনো নদী ভাঙ্গন। কখনো জ্বলোচ্ছাস। কখনো আবার ঘূর্নিঝড়ে সব কিছু লন্ডভন্ড করে দেয়। এমনকি হারিয়ে যায় শেষ সম্বল টুকু। আঘাতের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই ফিরে আসতে হয় তাদের। এতে করে টিকে থাকা লড়াইয়ে তাদের জীবন থেকে নানা কিছু কেড়ে নেয়। এমনটি বলছিলেন উপকূলের বাসিন্দা সাহেব আলী।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, উপকূলবাসীর দেখা সবচেয়ে ভয়াবাহতা ২০০৭ সালের সিডর। যা ১১ নভেম্বর উৎপত্তি হয়। ৬দিন পর ১৬ নভেম্বর স্বাভাবিক হয়। এরপর ২০০৯ সালের ২১ মে উৎপত্তি হয়ে ঘূর্ণিঝড় আইলা। যা ২৫ মে উপকূলে আঘাত হানে। ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এরপর ২০২০ সালের ২০ মে ঘটে সুপার সাইক্লোন ঘূর্ণিঝড় আমফান। যার ক্ষত এখনো শুকাতে পারিনি উপকূলের মানুষ। তবে এর মাঝ খানে অসংখ্য ঝড়, বন্যা পার করেছেন তারা। ১৫৮৪ সাল থেকে ২০২০ সালের ২০ মে পর্যন্ত ৭৫টি বড় ধরনের ঝড়-জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলা করেছে সুন্দরবন।
এদিকে সাতক্ষীরার উপকূল শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের নেবুগুনিয়া এলাকায় মঙ্গলবার (২৫ মে) দুপুর থেকে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি কপোতাক্ষ নদীর বাঁধ ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে সেটি সাময়িক বন্ধ হয়েছে। এছাড়া উপকূলজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম বার্তাবাজারকে জানান, কপোতাক্ষ নদের জোয়ারে পানি বেড়ে গিয়ে চারটি পয়েন্টে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ শুরু করে। প্রাথমিক ভাবে তা বন্ধ করা গেরেও পরবর্তী সময় পরিস্থিতি কী হবে বলা যাচ্ছে না।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ.ন.ম আবুজর গিফারী বার্তাবাজারকে বলেন, বাংলাদেশের একেবারে শেষ প্রান্তে শ্যানগরের অবস্থান। তাই প্রাকৃতিক দূর্যোগ এখানে প্রতিনিয়ত সঙ্গী। উপকূলবাসির জীবনমানের ক্ষতি কমিয়ে আনতে আমি সব সময় দূর্যোগপূর্ণ এলাকার খোঁজ খবর রাখছি। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মীর খায়রুল আলম/বার্তাবাজার/ভিএস