ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ রাতে আঘাত হানতে পারে উপকূলে, নেওয়া হচ্ছে প্রস্তুতি
ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবেলায় প্রস্তুত সাতক্ষীরা। ঘূর্ণিঝড় টি মঙ্গলবার থেকে বয়ে যাওয়ার কথা থাকায় সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় ইয়াশের প্রভাবে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। বৃষ্টির সাথে বাতাশের আদ্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত দিনের তুলনায় অনেক অংশে বেড়েছে বিভিন্ন নদীর পানি। মানুষ স্বাভাবিক ভাবে কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে পারলেও বাড়ি ফিরতে ভোগান্তির সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। তবে চলতি মৌসুমে ঘূর্ণিঝড় আমসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশংঙ্কা বিরাজ করছে এলাকায়। এছাড়া সকল ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ঘূর্নিঝড় ইয়াশ সর্তকতায় মাইকিং করতে দেখা গেছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। উদ্ধার সহ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় “ইয়াস” এর আগমনি বার্তায় উপকূলীয় এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষের একমাত্র চিন্তা হয়ে দাড়িয়েছে জরাজীর্ণ বেঁড়িবাধের ভাঙন। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর আগমনী বার্তা পাওয়ার সাথে সাথেই সাতক্ষীরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার উপকূলীয় এলাকার ১৬৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র। বর্তমানে উপকূলবাসীকে সেইসব আশ্রয় কেন্দ্র নেওয়া হচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, জোয়ারে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েকটি বেড়িবাধ ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
তিনি আরও জানান, ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ গুলাের মধ্যে ৫টি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ যার মধ্যে ঝাপা, পশ্চিম পাতাখালি, কামালকাটি, বন্যাতলা ও চাউলখোলা।
ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমার ইউনিয়নে ১৩টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে মােট জনসংখ্যার তুলনায় এটি অত্যন্ত নগণ্য।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে আটটি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো পশ্চিম দুর্গাবাটিতে ৩টি, পূর্ব দুর্গাবাটিতে ২টি, দাতিনাখালি আজিজ ম্যানেজারের বাড়ির সামনে ১টি, মহাসিন সাহেবের হুলা নামক স্থানে ১টি, চুনা ও কলবাড়ীতে ১টি। এছাড়া দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান ওই ইউপি চেয়ারম্যান।

মুন্সিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল জানান, ইউনিয়নটিতে বেড়িবাঁধের ৫ জায়গা ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হচ্ছে বড় ভেটখালী খালের গোড়া। এছাড়া দক্ষিণ কদমতলা, সিংহরতলী, চুনকুড়ি ও মৌখালী নদীর ধারও ঝুকিপূর্ণ। ইউনিয়নটিতে দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ১৪টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত আছে বলে জানান তিনি।
দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, ইউনিয়নটিতে গত আম্পানে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছিল। গাবুরা ইউনিয়নটি সম্পূর্ণ একটা দ্বীপ হওয়ায় চারিপাশ থেকেই পানির চাপ থাকে।
স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার উঠলেই ইউনিয়নের মানুষ ভীতির মধ্যে থাকে। এরপরও নেবুবুনিয়া, গাবুরা, নাপিতখালি, চকবারা, কালীবাড়ি, জেলেখালি ও দৃষ্টিনন্দন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ইউনিয়ন টিতে ১৫টি সাইক্লোন শেল্টার প্রত্যেকটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাতের জোয়ারে কয়েকটি বেড়িবাধ ভেঙে লােকালয় প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বেড়িবাঁধের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম জানান, দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো পরিদর্শন করেছি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কম্পার্টমেন্ট-৩ এর ১০.৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ হয়ে গেছে। একটা প্যাকেজের কাজ শুরু হয়েছে। আগের তুলনায় বেড়িবাঁধের অবস্থা এখন ভালো।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় ১৪৫ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র ও ১৫০০ স্কুল কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৮৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ রাখা হয়েছে। একই সাথে দুই কোটি ১৫ লাখ টাকার নগদ অর্থ সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ওয়াটার ট্যাংকি প্রস্তুত রয়েছে। শ্যামনগর ও আশাশুনিতে ৪ হাজার ৮৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্যরা
মীর খায়রুল আলম/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম