পরিবহন শ্রমিকদের মাস্ক থুতনিতে, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধের দীর্ঘদিন গণপরিবহন বন্ধ থাকার পর কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলতে শুরু করেছে। অর্ধেক যাত্রী আর বর্ধিত ভাড়া নিয়ে সোমবার (২৪ মে) ভোর থেকে চলাচল শুরু করেছে দূরপাল্লার গণপরিবহন । তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালু হলেও বেশিরভাগ বাস চালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি।

অনেকের মাস্ক থুতনির নিচেই থেকে যাচ্ছে । আর হরেক রকম অজুহাতে বেশিরভাগ চালক ও কন্ডাক্টর মুখ ডাকছেন না মাস্ক দিয়ে। এছাড়াও বাসের কিছু কিছু যাত্রীদের মুখেও মাস্ক নেই। তবে দূরপাল্লার গণপরিবহন চালু করে দেওয়ার প্রথম দিন যাত্রী চাপ তেমনটা চোখে পড়েনি। আজ দ্বিতীয় দিনে তুলনা যাত্রীর ভিড় বেশী থাকায় কিছু কিছু বাসে দারিয়ে যাত্রী নিতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (২৫ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ঢাকার কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে এমন চিত্র দেখা যায়।

থুতনিতে পরিবহন শ্রমিকদের মাস্ক। ছবি-বার্তা বাজার

সরেজমি গিয়ে আরো দেখা যায়, পরিবহন সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালক, অন্যান্য শ্রমিক কর্মচারী ও যাত্রীদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের কথা থাকলেও, শারীরিক দূরত্ব না মেনে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। এছাড়াও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা এ জাতীয় কোন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।

আকাশ পরিবহনের কন্ডাক্টর মো. মুমিন। থুতনির নিচে নামিয়ে রেখেছিলেন মাস্ক। কেন মাস্ক ঠিকভাবে পড়েননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতক্ষণ মাস্ক পড়েছিলাম। মাত্র একটু নাক থেকে নামিয়েছি। শ্বাস নিতে একটু সমস্যা হচ্ছিল তাই।

তিনি আরো বলেন, সকালে বাস রাস্তায় নামার আগে পুরো বাসের সিটে জীবাণুনাশক স্প্রে করেছি। দূরুত্ব বজায় রেখে যাত্রীদের লাইনে গাড়িতে উঠাচ্ছি। পাশাপাশি দুই সিটের একটিতে যাত্রী নিয়ে অন্যটি ফাঁকা রেখে বাস চালানো হচ্ছে। কেউ দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন না। যাত্রীদের মাস্ক না থাকলে বাসে যাতায়াত করতে দিচ্ছি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরাম পরিবহণের এক হেল্পারকে ধুমপান করতে দেখে, মাস্ক এর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, সে জানায়, তার মাস্ক বাতাসে উরে গেছে। তাই এখন সিগারেট ধরিয়েছে।

দিশারী পরিবহনের চালক রফিক ঠিকভাবে মাস্ক পরেননি। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অনেকক্ষণ মাস্ক পড়েছিলাম। গরমে মুখ ঘেমে গেছে তাই মাত্রই নামিয়েছি।

মাস্ক ব্যবহার করছেন না পরিবহন শ্রমিক। ছবি-বার্তা বাজার

বাসের বাসযাত্রী বেসরকারি কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার পর চালু করা হয়েছে দূরপাল্লার গণপরিবহন। এতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে এখন আর গাড়ির জন্য ভোগান্তি পোহাতে হবে না। তবে যে শর্তে সরকার গণপরিবহন চালু করে দিয়েছে তা মানা হচ্ছে বাসগুলোতে। যেভাবে পারছে যাত্রী তুলছে। স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। অতিরিক্ত যাত্রী নিচ্ছে তবে ভাড়া কম নিচ্ছেন না।

উল্লেখ্য, সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধের মধ্যে প্রায় ২২ দিন পর করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ও বাস মালিক, শ্রমিকদের দাবির মুখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে প্রথমে খুলে দেওয়া হয়েছে গণপরিবহন। এছাড়া দীর্ঘ ৪৯ দিন পর গতকাল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এদিকে বাস মালিক ও শ্রমিক সমিতির পক্ষ্য থেকে বলা হয়েছিলো যেসব পরিবহন স্বাস্থ্যবিধি মানবে না তাদের কঠোর শাস্তি ও জরিমানার আওতায় আনা হবে

রানা আহমেদ/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর