পূর্ব শত্রুতার জেরে ২ ভ্যান চালককে হত্যা, বাড়ি ভাংচুর-লুটপাট
মাদারীপুরে দলাদলি ও জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতা জের ধরে সালাম শেখ (৬০) ও মোতাহার দর্জি (৫০) নামের দুই ভ্যান চালককে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে। রোববার রাতে ও সোমবার সকালে জেলার রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ও মজুমদারকান্দি গ্রামে এ দুইটি ঘটনা ঘটে।
নিহত সালাম শেখ রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর হোসেনপুর গ্রামের মৃত আজিত শেখের ছেলে এবং নিহত মোতাহার দর্জি একই উপজেলার মজুমদারকান্দি খালপাড় এলাকার মৃত কালু দর্জির ছেলে। এ ঘটনায় হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর হোসেনপুর গ্রামের কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায় নিহত সালাম শেখের লোকজন।
পুলিশ, পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর হোসেনপুর গ্রামের আয়নাল শেখ গ্রুপের সাথে সুকুর আলী খালাসি গ্রুপের দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ চলে আসছিল। এর আগে দু-গ্রুপের সংঘর্ষে সুকুর আলী খালাসি গ্রুপের দুইজন নিহতের ঘটনায় আয়নাল ও তার দলের ৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তারা দুইদিন আগে জেল হাজত থেকে জামিনে এসেছে। এরই জের ধরে আয়নাল গ্রুপের লোক সালাম শেখ রবিবার রাতে ভ্যান চালানোর সময় হোসেনপুর বাজার-চান্দের বাজার রাস্তার চান্দের বাজার ব্রীজের কাছে একা পেয়ে প্রতিপক্ষ এমদাদুল শেখ (৩২), আতিয়ার মাতুব্বর(৪৫), রফিক মাতুব্বর(৪০) গংরা কুপিয়ে ফেলে রেখে গেছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। পরে এলাকাবাসি তাকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রাজৈর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষনা করে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে প্রতিপক্ষ সুকুর আলী গ্রুপের লোকেদের কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। অপরদিকে একই উপজেলার মজুমদার কান্দি খালপাড় এলাকার বাড়ির পাশের পাটক্ষেতে ভ্যান চালক মোতাহারের রক্তাক্ত মরদেহ ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।
সোমবার সকালে মরদেহটি দেখতে পায় এলাকাবাসি। এসময় রাজৈর থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে। তার একটি জায়গা নিয়ে ৩-৪ বছর যাবত বাসাবাড়ি গ্রামের কয়েকজনের সাথে মামলা চলছে বলে জানা গেছে।
তবে, ধারনা করা হচ্ছে দুটি হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে। সালাম শেখের রক্তাক্ত অবস্থায় কথা বলা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ভাইরাল হয়েছে। একই দিনে দুটি হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ ঘটনা উন্মোচনের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ সাদিক বার্তাবাজারকে জানান, আমরা দুইজন ভ্যান চালকের লাশ পৃথক দুটি স্থান থেকে উদ্ধার করেছি। একজনকে হাসপাতালে আনলে মারা যায়। অপরজনকে একটি পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয়। এখনো কেউ মামলা করেনি। তাছাড়া কাউকে এখনো আটক করা যায়নি।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তাবাজার/ভিএস