নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জে মসজিদে মাইক দান করার পর কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদ না পেয়ে সেগুলো ফেরত নিয়ে গেছেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। যার ফলে মসজিদটিতে মাইকে উচ্চ শব্দে আজান দেওয়া বন্ধ হয়ে গেল।
সোমবার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার তারাব পৌর সভার কর্ণগোপ গ্রামে এ ঘঠনা ঘটে।
জানা যায়, তিন বছর আগে কর্ণগোপ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে একটি মাইক দান করেন তখনকার মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ আলী ভুঁইয়া। কিছুদিন আগে (১৬ এপ্রিল) স্থানীয় মুস্ললিদের উপস্থিতিতে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি মনোনীত হন মোহাম্মদ আলী ভুঁইয়া। কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন সাধারণ সম্পাদক হতে। সেই পদ না পেয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২১ মে সাধারণ সভায় তার পদ থেকে অব্যহতি নেন।
ঘটনা এখানেই শেষ নয়। মসজিদের ইমামকে ফোন করে তা দেওয়া মাইক খুলে তাআর কাছে দিয়ে আসতে বলেন। ব্যাপারটি কমিটিকে জানান ইমাম। সবার সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাইক খোলে ফেরত দেওয়া হয় মোহাম্মদ আলী ভুঁইয়াকে।
মাইক না থাকায় উচ্চশব্দে আজান দেওয়া বন্ধ হয়ে যায় মসজিদটির। আজান শুনে মসজিদে আসা মুসুল্লিরা সময় মতো জামাতে নামাজে শরিক হওয়া নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
এ ব্যাপারে মসজিদ পরিচালনা কমিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা জানান, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘ ১২ বছর আগে দুই বছর মেয়াদী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। কিন্তু তিনি সরকার দলীয় ওয়ার্ড কমিটির নেতা হওয়ার কারণে যবর দখল করে মেয়াদ শেষ হলেও ১২ বছরে কোন কমিটি গঠন করতে দেননি। এবং দীর্ঘ ১২ বছরে কোনও হিসাব এলাকাবাসীকে দেননি। নব গঠিত কমিটিকেও কোনও লিখিত হিসাব দিতে পারেননি। উল্টো সাধারণ সম্পাদক না হতে পারার কারণে দান করা জিনিস ফিরিয়ে নেন।
সভাপতি শফিউদ্দিন প্রধান বলেন, দান করে কেউ কোন জিনিস ফেরৎ নেয় এমন নজির আমি আর কোনও দিন দেখিনি। তবুও সে ফেরৎ চাইছে যেহেতু আমরা তার জিনিস ফিরিয়ে দিয়েছি। আমরা মাইক খুলে রেখেছি তাকে জানিয়েছি সে যেকোন সময় নিয়ে যাবে।
তবে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। আমি মাইক খোলে নেইনি। মসজিদ কর্তৃপক্ষ আমাকে দিয়ে দিয়েছে।
বার্তা বাজার/এসজে