মানবাধিকার হরণকারীদের নিয়ে মানবাধিকার কমিটি

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভায় চিহ্নিত ও বিতর্কিত লোকদের দিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের (বিএইচআরসি) কমিটি অনুমোদন দেয়ায় চলছে সমালোচনা। এতে মানবাধিকার কমিশনের কর্মকান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুশীল সমাজ প্রতিনিধিরা। মানবতা বিরোধী কর্মকান্ড থেকে বাঁচতে মানবাধিকার কর্মী সাজার কৌশল নিয়েছে বলে দাবী স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের।

দেশের দক্ষিন সীমান্ত জনপদ টেকনাফ মাদক, আদম পাচার, মানবাধিকার হরণ, হত্যাসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। এমন একটি সংকট পূর্ণ এলাকায় অবসর প্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যামামলার আসামী সাবেক ওসি প্রদীপের ক্রসফায়ার বানিজ্যের একান্ত সহযোগী খ্যাত নূরুল হোসেন ও তার একই চক্রের লোকদের দিয়ে চলতি মাসে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষনা দিয়েছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন। এই কমিটিতে তার অপকর্মের বেশ কয়েকজন সহযোগীও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকা ভূক্ত শীর্ষ ইয়াবা কারবারীদের নাম স্থান পেয়েছে।

পরবর্তীতে ওই কমিটি অনুমোদন দেয়ার সপ্তাহ পর স্থানীয় ব্যবসায়ী নূর মোহাম্মদ কে সভাপতি ও হাবিব উল্লাহ কে সা.সম্পাদক ঘোষনা করে কেন্দ্রীয় মহাসচিব ড. সাইফুল ইসলাম ও বিশেষ প্রতিনিধি মনোয়ারা বেগম স্বাক্ষরিত আরো একটি কমিটি অনুমোদন দেয়।

এই কমিটি অনুমোদনের পর আসলে কোন কমিটি বৈধ তাই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। কমিটি আত্মপ্রকাশের পর বিতর্ক উঠে নূরুল হোসেনসহ কমিটির পদবীধারী বিতর্কিত লোকদের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক মানবাধিকার কমিশনের কর্মকান্ড নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক (ওসি) প্রদীপ আমলে নূরুল হোসেন নিরপরাধ মানুষকে মাদক কারবারী সাজিয়ে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার যেমনটি অভিযোগ রয়েছে, একই ভাবে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর ছাড়িয়ে নেয়া ও ক্রসফায়ার থেকে বাঁচানোর নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, কখনো দাবীকৃত অর্থ না পেয়ে ক্রস ফায়ারের দিকে ঠেলে দেয়ার বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়দের তুপের মুখে কয়েক জন ভূক্তভোগীদের মোটা অংকের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। একই ভাবে আরো কয়েকটি ঘটনায় হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে আদালতে তিনটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী নূরুল বশর বলেন- নূরুল হোসেন একজন চিহ্নিত দালাল। তার কারনে প্রদীপ আমলে নিরপরাধ অনেক মানুষ জেল খেটেছে। আনেকে আপনজন হারিয়েছে। মানবতা বিরোধী কৃতকর্ম থেকে দ্বায় মুক্তির আশায় মানবাধিকারের মুখোশে নিজের অপকর্ম আড়ালের চেষ্টা করছে। একই সাথে একই অপরাধে অভিযুক্ত কতিপয় যুবদলের নেতা কর্মীদের বাঁচাতে সে সংগঠনে যুক্ত করেছে।

সুশীল সমাজ প্রতিনিধি ও রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির চেয়ারম্যান মুজাম্মেল হক বলেন- মানবাধিকার মানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্টায় কাজ করা। যারা মানুষের অধিকার হরণ করে তাদের দিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্টা অসম্ভব। এভাবে চলতে গেলে সাধারণ মানুষের কাছে কমিশন আস্থা হারাবে এবং গ্রহন যোগ্যতার প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।

সেক্টর কমান্ডার ফোরাম প্রজন্ম ৭১ এর সভাপতি সাইফুদ্দিন খালেন বলেন- কোন মানবাধিকার হরণকারীকে দিয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্টা করতে চাইলে কমিশন আস্থা হারাবে। তাই কমিটি যাচাই বাচাই করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কমিশনের দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের মহা-সচিবের বরাত দিয়ে একজন মুখপাত্র বলেন- এই কমিটির লোকজনের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ শুনা যাচ্ছে। এই কমিটির জন্য স্থানীয় এমপি ও মেয়রের সুপারিশ করেছেন।

এমপির বক্তব্য পাওয়া না গেলেও মেয়র সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সুপারিশ করে ভূল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন।

খাঁন মাহমুদ আইউব/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর