শেরপুরের মির্জাপুর ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া মেলেনা কাঙ্খিত সেবা

বগুড়ার শেরপুরের মির্জাপুর ইউনিয়ন উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। খাজনা খারিজের জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায়, বৈধ কাগজপত্রের অহেতুক ভুল ধরে হয়রানী করা, এসিল্যান্ডের কথা বলে টাকা নেওয়া সহ নানা অপকর্মের কথা তুলে ধরেছেন ওই ইউনিয়নের ভুক্তভোগীরা। অনেকেই টাকা দিতে না পারায় খাজনা খারিজ না করে বাড়ি ফিরে গেছেন। এবং এই উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা থাকা কালীন কেউ জমির খাজনা খারিজ করবেন না বলেও জানিয়েছেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত প্রায় ২ বছর ধরে ইউনিয়নের বাসিন্দাদের কাছ থেকে এভাবেই অবৈধভাবে টাকা নিয়ে জমির খাজনা খারিজ করছেন মির্জাপুর ইউনিয়ন উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান। কেউ টাকা না দিতে পারলে জমি খারিজের কাগজপত্র নেননা তিনি।

এমনই এক ভুক্তভোগী মাকরকোলা গ্রামের মৃত তছির উদ্দিনের ছেলে গোলাম রব্বানী। তিনি গত জানুয়ারী মাসে মাকরকোলা মৌজার ৯৯ শতক জমি খারিজ করতে গিয়েছিলেন মির্জাপুর ভূমি অফিসে। তার ১৭ শতক জমি অন্য দাগে থাকায় উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সেই জমি খারিজ করতে তাকে ৪ দিন ঘুরিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। গোলাম রব্বানী টাকা দিতে না পারায় খারিজের আবেদন নেননি ভূমি কর্মকর্তা। টাকার অভাবে এখন পর্যন্ত তার জমি খারিজ করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে গোলাম রব্বানী বলেন, টাকা দিতে না পারায় এই নায়েব আমারে সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছে। উনি থাকতে আমি জমি খারিজ করতে পারবনা।

এভাবে চলতে থাকলে এখানকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মির্জাপুর ইউনিয়নের তালতা গ্রামের আব্দুল মান্নান মাকেজ বলেন, আমি বীর গ্রামের আব্দুর রহিম মাস্টারের ছেলে বকুলের সাথে তার মাথাইলচাপড় মৌজার ৬২ শতক জমি খারিজ করতে গিয়েছিলাম। আমার কাছ থেকে নায়েব রাজিবুর রহমান আপেল ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। কিসের জন্য ২০ হাজার টাকা লাগবে জানতে
চাইলে এসিল্যান্ডকে ১২ হাজার টাকা দিতে হবে এবং অন্যান্য খরচ আছে বলে তিনি আমাকে জানান। অথচ পরবর্তীতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. সাবরিনা শারমিনের কাছে গেলে শুধুমাত্র ডিসিআরের টাকা জমা দিয়েই আমার খারিজের কাজ হয়ে গেছে।

সরাসরি এসিল্যান্ড অফিসে যাওয়ায় মির্জাপুরের উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কেস নাম্বার ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করে দিয়েছিল যাতে ফাইল খুজে না পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর দক্ষিনপাড়া গ্রামের মোজাহার আলী শেখের ছেলে আব্দুর রহিম জানান, আমার ছোট ভাই সুকুমুদ্দিনের ১৩ শতক জমি খারিজের বিপরীতে এই নায়েব আমার কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা নিয়েছে। কিসের জন্য নিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এতোকিছু আপনার জানার প্রয়োজন নেই।

একই ধরনে অভিযোগ করেছেন মৃত মনসব প্রামানিকের ছেলে খাজেল উদ্দিন প্রামানিক, ঘোলাগাড়ি গ্রামের আলহাজ্ব সিদ্দিক মন্ডলের মেয়ে ছবিলা খাতুন, তালতা গ্রামের ফজলুল হক, জুরান শেখ সহ অসংখ্য সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম নবী বাদশা বলেন, সরকার দলীয় নেতা হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ আমার কাছে আসে। বিষয়গুলো নিয়ে মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে বর্তমান নায়েব আমার সাথেও অসৌজন্যমুলক আচরণ করেছেন। তার কথা মতে তিনে জেলা প্রশাসকের চাইতেও অনেক বড়। তিনি যেভাবে চাইবেন সেভাবেই কাজ করে নিতে হবে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর ইউনিয়ন উপ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান আপেল বলেন, এসকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। যাদের কাজ করে দিয়েছি তাদের কোন সমস্যা নেই। কাগজপত্র সমস্যার কারণে যাদের কাজ করতে পারিনি তাদেরই এমন সমস্যা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. সাবরিনা শারমিন বলেন, এ ধরনের দুইটি অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর