ঝড়ের ভয়ে আগে আগেই আম বাজারজাত করতে ব্যাস্ত বাগান মালিকেরা

ধেয়ে আসা এ বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় “যশ” এর ভয়ে আগে আগেই বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে আড়ৎতে ওঠাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে আম বাগান মালিকেরা ও ব্যাবসায়ীরা। এতে যেমন অপরিপক্ব কাঁচা আম বাজারে উঠছে তেমনি ঝড়ের পরে তীব্র আম সংকটের আশঙ্কা করছে সাধারণ জনগন।

সরজমিনে যশোর জেলার আওতাধীন বেশকয়েকটি আম বাগান ঘুরে দেখা যায় চলতি বছরে হিমসাগর,ল্যাংড়া,আম রুপালী আমের ফলন অনান্য বারের খুব বেশি একটা ভালো হয়নি। যে ফলন হয়েছে তা দিয়ে কোনভাবেই এবছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না।

যশোরের শার্শায় মোতালেব হোসেন নামে এক আম বাগান মালিক বার্তা বাজারকে বলেন, গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে আমার বাগানের মোট ৪০ টা গাছের মধ্যে ৩৫ টা আম গাছের শাখা প্রশাখার ডাল ভেঙে যায়। যার ফলে ওই ডাল গুলো না থাকায় এবার আম কম হয়েছে। তারপর এবার আবারও ঘূর্ণিঝড় “যশ” আশার খবর পেয়ে আগে থেকেই আমরা আরেক আতঙ্কের মধ্যে পড়ে গেছি। ঝড় হলে আমের দাম একেবারে কমে যাবে তাই ঝড়ের খবর পেয়ে আম যতটা পারছি বাজারজাত করার চেষ্টা করছি। তাতে আমের সাইজ একটু ছোট হলেও আর কাঁচা হলেও বিক্রি করা ছাড়া কোন উপায় দেখছি না। এখন প্রতি কেজি আম ৭০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অতএব আমের দাম এখন স্বাভাবিক বলা যায়।

এক ব্যাবসায়ী নাম পরিচয় গোপন করে বলেন, আমরা গত বছর কেনা বাগান থেকে অনেকটা লস করেছি ঝড়ের কারনে। এবছর আগে আগে যতটা পারছি বিক্রি করার চেষ্টা করছি। যদিও আম একটু কাচা অবস্থায় গাছ থেকে নামানো হয় তবে এগুলো আড়ৎতে ওঠালে ওখান থেকে যে ব্যাবসায়ীরা কেনে তারা গোপনে বিভিন্ন মেডিসিন দিয়ে আম পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করে।

বাগানে সরাসরি আম কিনতে আসা, রুহুল কবীর বার্তা বাজারকে বলেন, এবছর আম বাগান মালিকেরা আগে আগে আম পেড়ে ফেলার কারনে বাগানে বলতে গেলে কাঁচা পাকা কোন আমই থাকছে না। আর এর ফলে ঝড়ে আঘাত আনার পর বাজার এই সকল সুস্বাদু জাতের আম পাওয়া যাবে না। আর পাওয়া গেলেও তা অধিক দামে বিক্রি হবে।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড় “যশ” এর অবস্থান এবং এর গতিবেগ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে আগামী ২৭-২৮ তারিখ নাগাত ঘূর্ণিঝড় “যশ” বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আচড়ে পড়বে। তবে এ ঝড়ে কেমন কি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে তা এই মুহুর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও এটির গতিবেগ আম্পানের চেয়েও বেশি।

এ্যান্টনি দাস অপু/বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর