স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে শর্ষের মধ্যে ভূততো আছেই: ঢাবি অধ্যাপক
করোনাকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নানাবিধ কর্মকাণ্ডে ব্যাপক অসামাঞ্জস্যতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অতিসম্প্রতি দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর বিষয়গুলো আরও সামনে এসেছে।
করোনাকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাপক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতিও অনিয়ম নিয়ে সম্প্রতি দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দুর্নীতি চিহ্নিত করে দুদকের পক্ষ থেকে একটি সুপারিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ায় এর কোনো ফলাফল প্রতিফলিত হয়েছে কি না এমন প্রশনের জবাবে ঢাবি অধ্যাপক বলেন, দুর্নীতির ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং তা নিরসনের সুপারিশ প্রণয়ন করা একটা বড় বিষয়। আর দুদককে সে জন্য ধন্যবাদ জানাই। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য যে কাঠামোগত সক্ষমতা থাকা দরকার, তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেই। আর শর্ষের মধ্যে ভূত তো আছেই।
তিনি বলেন, সাধারণ পানি পড়া বা ঝাড়ফুঁক দিয়ে তা সারানো সম্ভব নয়। দরকার দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ওঝা। তবে একটি কথা তো সত্য। গণমাধ্যমের কল্যাণে হোক আর সরকারের উদার নীতির কারণেই হোক, এসব দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র তো কিছুটা বেরিয়ে আসছে।
স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও দুর্নীতির ধরন দুটোই পুরোনো। এর মধ্যে আছে নিয়োগ, বদলি ও প্রমোশনসংক্রান্ত দুর্নীতি, অন্যটি হলো কেনাকাটা বা টেন্ডারসংক্রান্ত দুর্নীতি। কোভিডকালে এ দুই ধরনের দুর্নীতিই আমরা দেখতে পেয়েছি। দুই ক্ষেত্রেই বাইরের ও ভেতরের দুর্নীতিবাজ চক্রের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, প্রথমটির ক্ষেত্রে মূলত রিজেন্টের সাহেদ বা জেকেজির সাবরিনার মতো স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের অসত্য বা অসম্পূর্ণ রেফারেন্স ব্যবহার করে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ওএসডি বা অন্যত্র পোস্টিংয়ের ভয়ে অনেক সময় ইচ্ছার বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। আর কিছু দুর্নীতি আছে যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, আবার কিছু দুর্নীতি আছে যেটা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ম্যানেজারিয়াল দক্ষতা না থাকার কারণে ঘটে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী যাঁরা দীর্ঘকাল একই বিভাগে কর্মরত আছেন, তঁাদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব। বাইরে থেকে যে দুর্নীতি হয়, তা বন্ধে সরকারঘোষিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির সফল বাস্তবায়ন করা দরকার।
দ্বিতীয়টির জন্য প্রত্যেক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পরিবারের সদস্য এবং নিকটাত্মীয়দের বার্ষিক সম্পদ বিবরণী প্রকাশের কার্যকরী ব্যবস্থা থাকা দরকার। আর তৃতীয় ধরনের জন্য স্বাস্থ্য খাতের দক্ষ ব্যবস্থাপক তৈরির নতুন ধারা তৈরি করাসহ ছোট-বড় সব পদ নিয়মিত বদলির আওতায় আনা প্রয়োজন। আর দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বর্জনের তো কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বার্তা বাজার/এসজে