ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা আর লোডশেডিং নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে পড়েছে। কখনো ঘোষণা দিয়ে, আবার কখনো ঘোষণা ছাড়াই লাইন সংস্কারের নামে সারাদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছে সংশ্লষ্টি র্কতৃপক্ষ। আবার আকাশে সামান্য মেঘ দেখা দিলে কিংবা সামান্য বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই- কয়েক ঘণ্টার আগে দেখা মেলে না বিদ্যুতের। এভাবে দিনে-রাতে অন্তত ১০/১২ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছে উপজেলাবাসী।
গত কয়েক মাস ধরে এমন অব্যবস্থাপনার শিকার হলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না আখাউড়ার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। তবে গত এক সপ্তাহে বিদ্যুতের এ সমস্যা তীব্র আকার ধারন করেছে। বিদ্যুতের এ ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিদ্যুত না থাকায় তীব্র গরমে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। আর সমস্যার প্রতিকার চাইতে বিদ্যুত অফিসের মোবাইল নম্বরেও কল দিয়ে সেবা পাচ্ছে না গ্রাহকরা। প্রায় সময়ই ফোনটি রিসিভ করে না কর্তৃপক্ষ। সাধারণ মানুষের এ দুর্ভোগ লাগবে কর্তৃপক্ষ যেন কানে তুলা দিয়ে ঘুমাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌর এলাকাসহ উপজেলার উত্তর ইউনিয়ন, দক্ষিণ ইউনিয়ন, মোগড়া, মনিয়ন্দ, ধরখার ইউনিয়নে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়রে কারণে নষ্ট হচ্ছে ফ্রিজ, টিভি, ফ্যানসহ দ্যৈুতিক যন্ত্রপাতি। এছাড়া সংস্কাররে নামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখায় বাড়ছে ভোগান্তি। সারাদেশেরে মানুষ বিদ্যুৎ খাতের সুফল ভোগ করলেও বঞ্চতি হচ্ছে আখাউড়ার মানুষ। এতে ভুক্তভোগীদরে মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।
মোগড়া ইউনয়িনরে মো. শাহজাহান বার্তাবাজারকে বলনে, এখানে দিনে-রাতে লোডশেডিং যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকছেই। এই গরমে ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় বাসা-অফিস, ব্যবসা প্রতষ্ঠিান- কোথাও স্বস্তিতে থাকতে পারছি না।
আখাউড়া মনিয়ন্দ ইউনিয়নের টনকি গ্রামের হোমিও চিকিৎসক মোশাররফ হোসেন বার্তাবাজারকে বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে রাতের বেলা মাত্র ২ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাই। দিনে-রাতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৫-৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে। এতে ভ্যাপসা গরমে নারী-শিশুসহ সকলের কষ্ট হচ্ছে। ফ্রিজের মালামাল পচে যাচ্ছে।
উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের আমােদাবাদ গ্রামের নারী বীরমুক্তিযোদ্ধা শর্মিলা দেব বার্তাবাজারকে বলেন, ১০/১২ দিন যাব বিদ্যুৎ বেশি সমস্যা করছে। একটু পর পরই বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে। বিদ্যুতের লোডসেডিংয়ের কারণে গরমে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না। ঠিকমত বিদ্যুৎ না থাকলেও আগের চেয়ে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসছে।
আখাউড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. আবুল বাশার বার্তাবাজারকে বলনে, গ্রাহকদের র্সাবক্ষনিক বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেক সময় লাইনে সমস্যা থাকায় লোডশেডিং হয়। আমরা এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে কাজ করছি। শিগগিরই আখাউড়ায় নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
হাসান মাহমুদ পারভেজ/বার্তাবাজার/ভিএস