গোলাপগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪
সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১৮ বছরের এক তরুণীকে জঙ্গলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিকসহ ৪ জনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসী।
গতকাল শনিবার (২২ মে) দুপুর ২ টার দিকে উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের গণ্ডামারা গ্রামের চরোরাগোল্লা নামক স্থানে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলো- উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের তুরুকভাগ গ্রামের লিলু মিয়ার ছেলে আব্দুল হাকিম (২০), দক্ষিণ কান্দিগাঁও গ্রামের মঈন উদ্দিনের ছেলে রাজন আহমদ (২২), খালপাড় গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে শিপন আহমদ (১৯) ও শাহপরান উপজেলার পীরের চক গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আক্তার হোসেন (২৩)।
পুলিশ জানায়, প্রায় ২ মাস আগে সিএনজি অটোরিকশায় যোগে যাওয়ার সময় মুরাদপুরে ধর্ষিত তরুণীর সাথে অভিযুক্ত আব্দুল হাকিমের পরিচয় হয়। এ সময় আব্দুল হাকিম তার ফোন নাম্বার তরুণীকে দেয়। ২ মাস কথা বার্তা বলার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ঘটনার দিন দুপুর ১২ টার দিকে অভিযুক্ত প্রেমিক শিপন আহমদের নাম্বার থেকে কল দিয়ে ধর্ষিত তরুণীকে মুরাদপুর বাজারে আসার কথা বলে। এ সময় তরুণী আসলে অজ্ঞাত একটি সিএনজি অটোরিকশা করে তরুণীকে নিয়ে গণ্ডামারা গ্রামের চরোরাগোল্লা নামক স্থানে পৌঁছা মাত্র গাড়ি থেকে হেঁটে টিলার পাশে জঙ্গলে নিয়ে যায়। এসময় প্রেমিক আব্দুল হাকিম বন্ধুদের ফোন দিয়ে ঘটনাস্থলে আসার কথা বলে। ধর্ষিত তরুণী জানতে চাইলে সে বলে তাকে নিয়ে বেড়াতে যাবে। প্রেমিক অভিযুক্ত আব্দুল হাকিমের ফোন পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে এসে ঐ তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। তরুণীর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে অভিযুক্তদের কাছ থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে অভিযুক্তদের স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট নিয়ে যান। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান সবাইকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার এসআই ফয়জুল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি (মামলা নং- ২৩) দায়ের করা হয়েছে। আজকেই তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। সেই সাথে ধর্ষিত তরুণীকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
ফাহিম আহমেদ/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম