বাঁশখালীতে ৭ জন নিহতের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষে ৭ জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্যে বহিরাগত ইন্ধন, বেতন ভাতা না দেওয়া, আবাসন ব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতকেও দায়ী করা হয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিলের ওই সংঘর্ষে ৭ জন নিহতের পাশাপাশি আহত হয় অর্ধ শতাধিক। বুধবার (১৯ এপ্রিল) চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন খান। বিষয়টি শনিবার জানা যায়।

বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা এলাকায় এসএস পাওয়ার-১ নামের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি যৌথভাবে নির্মাণ করছে বাংলাদেশের এস আলম গ্রুপ, চীনের প্রতিষ্ঠান সেফকো থ্রি ইলেকট্রিক পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন ও এইচটিজি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সংঘর্ষের নেপথ্যে বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামের আমিন উল্লাহর ছেলে আব্দুর রশিদ ও এমদাদ মিয়ার ছেলে নুরুল আলমের ইন্ধন পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তারা বিভিন্ন দাবি নিয়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মারমুখী করে তুলেছিলেন। এই দু’জনের নেতৃত্বে অন্তত ২৫ জন বহিরাগত শ্রমিককে উত্তেজিত করে তুলেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছিল শ্রমিকরা।

বেতন পেতে কোনো কোনো মাসে ১৮ তারিখ পর্যন্ত শ্রমিকদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। এর জন্য দায়ী শ্রমিক সরবরাহকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। রমজানকে কেন্দ্র করে কিছু সমস্যাও শ্রমিকদের বিক্ষোভের দিকে ঠেলে দিয়েছে। শ্রমিকদের অস্বাস্থ্যকর আবাসন, সুপেয় পানি সংকট, অপরিষ্কার টয়লেট ও খাবার সমস্যা ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে শ্রমিকদের এ বিক্ষোভ পরিকল্পিত মনে হয়নি তদন্ত কমিটির। তাৎক্ষণিক শ্রমিকদের উত্তেজিত করে তোলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন খান বলেন, চীনা নাগরিক ও বাংলাদেশিদের মধ্যে ভাষাগত জটিলতা থাকায় কিছু সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে এ জন্য কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। শুরুতে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করেছে। এক পর্যায়ে রাবার বুলেট ছুড়ে সরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছে। পরে ব্যর্থ হয়ে চীনা নাগরিকদের জানমাল ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় গুলি চালিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে যে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর