খাদ্য সংকটে থাকা ৫৫ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
বিগত এক বছরে সারা বিশ্বে নতুন করে খাদ্য সংকটে পড়েছে আরও ২ কোটি মানুষ। করোনার কারণে অর্থনৈতিক সংকট, বৈরী আবহাওয়া, যুদ্ধ-সংঘাতে বিশাল অংকের এই মানুষদের নিয়মিত খাবার জুটছে না। এধরনের খাদ্য সংকটে গতবছরও পড়েছিল সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ।
সারা বিশ্বের যে ৫৫টি দেশের মানুষ এই সংকটে পড়েছে তার তালিকায় নাম উঠে এসেছে বাংলাদেশেরও। সম্প্রতি বৈশ্বিক খাদ্যসংকট প্রতিবেদন ২০২১-এ এসব তথ্য জানা গেছে।
এক যুগ ধরে এ ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করে আসছে বিশ্বের খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর জোট ‘গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিস’।
এবার এই সংস্থা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে মূলত কক্সবাজার অঞ্চলে বসবাস করা রোহিঙ্গাদের জন্য। , কক্সবাজারে সবচেয়ে বেশি খাদ্যসংকটের কারণ, জেলাটির ১২ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৭০ শতাংশই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। যারা জেলার বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ সরকার এবং বৈদেশিক উন্নয়ন সংস্থাগুলো তাদের খাবার, বাসস্থান ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সহায়তা করছে।
এদিকে রাজনৈতিক সংঘাত ও যুদ্ধের কারণে খাদ্যসংকট বেড়ে যাওয়া দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে আফগানিস্তানে রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে দেশটির মধ্যে ২৯ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। তারা দেশটির বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে। আর ১৪ লাখ মানুষ পাকিস্তানের আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করোনার কারণে বাংলাদেশের শিশুদের কৃশকায় অবস্থা থেকে উন্নতির জন্য যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো, তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করোনার আগের সময়ের তুলনায় ৭৪ শতাংশ কার্যক্রম নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্যসহায়তা ২০১৯-এর তুলনায় অর্ধেকের বেশি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু ২০২০ সালে করোনার কারণে এসব আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার ৬২ শতাংশ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বুরকিনা ফাসো, দক্ষিণ সুদান ও ইয়েমেনের ১ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ খাদ্যসংকটের কারণে মৃত্যুর মুখে আছে। খাদ্যসংকটে থাকা অন্য শীর্ষ দেশগুলো হচ্ছে সিরিয়া, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান, বুরকিনা ফাসো, হন্ডুরাস, মোজাম্বিক, সিয়েরা লিওন, উগান্ডা ও ক্যামেরুন।
বার্তা বাজার/এসজে