অবৈধপথে ইতালি যাত্রা, নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের বাড়িতে আহাজারি

গত ১৬ মে অবৈধপথে ইতালি যাবার সময় লিবিয়ার তিউনিশিয়ার ভুমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় ৬৮ জন বাংলাদেশী উদ্ধার হয়েছে। ওই ঘটনায় আরো ১৩ অভিবাসী নিখোঁজ রয়েছে। নাইজেরিয়ার ৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

তিউনিশিয়ার সেনাবাহিনী প্রথমে যে ৩২ বাংলাদেশীকে জীবিত উদ্ধার করেছে তাদের মধ্যে মাদারীপুর জেলার সদর উপজেলার ২১, রাজৈর উপজেলার ১ ও শিবচর উপজেলার ১ জন। এরমধ্যে একই গ্রামের ১০জন। তবে, ওই গ্রামের তিন শিশু সন্তানের জনক সেন্টু মন্ডল (৪২) এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে পরিবারের দাবী।

এদিকে রাজৈর উপজেলার আমবাগ গ্রামের খলিল বেপারীর ছেলে আসাদুজ্জামান ও হরিদাসদি-মহেন্দ্রদি গ্রামের আব্দুল মান্নান মাতুব্বরের ছেলে মো. লোকমান হোসেন এর কোন খোঁজ পায়নি বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনেরা।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং ভূক্তভোগীদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৬ মে) লিবিয়ার জাওয়ারা উপকূল থেকে একটি নৌকায় অবৈধভাবে ভুমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপের ইতালী যাচ্ছিল ৯০জন অভিবাসন প্রত্যাশী। ইউরোপে প্রবেশের সময় উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ার উপকুলে নৌকাটি ডুবে যায়।

এ ঘটনার পর তিউনিশিয়ার সেনাবাহিনী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে প্রথমে ৩২ ও পরে ৩৬ অভিবাসন প্রত্যাশীকে জীবিত উদ্ধার করে। তাদেরকে তিউনিশিয়ায় রাখা হয়েছে বলে উদ্ধারকৃত কয়েকজন পরিবারের কাছে মোবাইলে জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ৬৮ জনই বাংলাদেশি। এর মধ্যে ২৩ জনের বাড়ি মাদারীপুর জেলার সদর, রাজৈর ও শিবচর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। এর মধ্যে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের নয়াচর গ্রামের ১০জন। নৌকাডুবিতে একই গ্রামের সেন্টু মন্ডল এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে তার শ্বশুর আবদুর রব জানিয়েছেন।

নিখোঁজ ১৩ জন অভিবাসন প্রত্যাশী কোন কোন দেশের তা জানা যায়নি। মাদারীপুরের ২৩ জন প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের ফিরে পাওয়ার শঙ্কায় পরিবারের মাঝে বিরাজ করছে অনিশ্চিয়তা আর হতাশা।

স্থানীয়রা জানায়, নয়াচর গ্রামের মানব পাচারকারী চক্র ইতালী নেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা করে নেয়। জমিজমা বিক্রি কিংবা ব্যাংক ঋণ এনে তারা দালালের হাতে টাকা তুলে দেয়। তবুও সন্তানরা ইতালী পৌঁছাতে পারেনি। অনেকে লিবিয়ার বন্দী শিবিরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে তাদের পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করছে দালালচক্র।

নিখোঁজ সেন্টু মন্ডলের স্ত্রী সাথী আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীর খোঁজ পাইনি। তিনি বেঁচে আছেন কিনা তাও জানি না। আমি এখন ৩ অবুঝ সন্তান নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো।’

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘দালালদের তালিকা করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অবৈধপথে বিদেশযাত্রার প্রবণতা বাংলাদেশের মধ্যে মাদারীপুর জেলায় বেশি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী একাধিক দালালচক্র। বিভিন্ন সময় একাধিক মামলা হলেও অদৃশ্য হাতের ইশারায় দালালচক্র বার বার রয়ে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কেউ কেউ ধরা পড়লেও পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হয় তাও জানা যায় না।

আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তাবাজার/ভিএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর