ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চারশো বাদাম চাষীদের ইউএসএআইডি’র আর্থিক সহযোগিতায় (এগ্রিকালচারাল ভ্যালু চেইস) প্রকল্পের ম্যাধ্যমে ডেভেলপমেন্ট কমিটির (এসডিসি) দেওয়া উন্নত প্রশিক্ষণকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ খরার কাছে হার মানতে হচ্ছে।
জানা যায়, গত ২০১৬ সালের ৩১জানুয়ারী থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (সাবেক) উপ-পরিচালক (এভিসি) কৃষিবিদ সুবল কুমার সাহা প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে প্রতি ব্যাচে ২৫জন করে পর্যায়ক্রমে উপজেলার চারশো বাদাম চাষিকে উন্নত প্রশিক্ষন দেন। এর মধ্যে রয়েছে বুড়াইচ ইউনিয়নের খোলাবড়িয়া, চর খোলাবাড়িয়া, গোপালপুর ইউনিয়নের দিগনগর, কাতলাশুর ও চান্দড়া, টগরবন্দ ইউনিয়নের নন্দীগ্রাম, বানা ইউনিয়নের বেলবানা এবং পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়ার চর অঞ্চালের বাদাম চাষিরা। আশা করা হয়েছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবছর দ্বিগুণ ফলন হবে। সে আশার গুড়ে বালু দিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ খরার কাছে হার মানতে হয়েছে বাদাম চাষিদের। আর এতে বেশি বিপাকে পড়েছে বর্গা চাষি’রা।
খোলাবাড়িয়া গ্রামের তাঁরা মিয়া নামে এক বর্গাচাষি জানান, গত বছর ৫ একর জমিতে বাদাম চাষ করে প্রায় ৬০ মণ বাদাম পেয়েছিলেন। এবার তিনি ৭ একর জমি চাষ করেছেন। রোপনের সময় প্রতিমণ বাদাম বীজ তাকে ৬ হাজার টাকা দরে ক্রয় করতে হয়েছে। এছাড়া জমি চাষ, রোপন ও অনান্য খরচ বাবদ প্রতি একরে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবার প্রায় সব বাদাম গাছ খরায় পুড়ে গেছে। এ বছর বীজ রোপনের পর থেকেই তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় বিগত বছরের তুলনায় ফলন হবে চার ভাগের এক ভাগ।
পাড়াগ্রামের বাদম চাষী রুহুল আমীন জানান, ‘তিনি তিন একর জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। কিন্তু তীব্র খরায় প্রায় সব বাদাম গাছ পুড়ে গেছে।’
একই অবস্থা খোলাবাড়িয়া গ্রামের চান মিয়ার ৬ একর, মনি মিয়ার ৪ একর, আব্দুল গাফফর মোল্যার ৫ একর, আফতাব মোল্যার ৫ একর, তাহাজ্জেত মোল্যার ৬ একর, নজরুল মেম্বারের ৮ একর, মো. আমির হোসেনের ১২ একর, কবির মোল্যার ৫ একর ও ইউনুছ মোল্যার ৬ একর জমির। পাড়াগ্রামের আকুববর মোল্যার ৬ একর, রুহুল আমীনের ৩ একর ও জহুর মোল্যার ৫ একর জমিতেও একই অবস্থা। এছাড়া উপজেলার অন্য এলাকা ঘুরেও এ দৃশ্য দেখা গেছে।
তবে এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বর্গাচাষিরা। এরা অনেকেই ঋণ নিয়ে বাদাম চাষ করেছেন। এছাড়া অনেকের আবার ঋণের টাকা পরিশোধ করতে ভিটে মাটি হারাতে হবে।
চাষিদের সাথে সব সময় যোগাযোগকারী উক্ত প্রকল্পের কর্মকতা (পিএসও) মো. খাইরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, ‘আলফাডাঙ্গা উপজেলায় প্রায় ২ হাজার একর জমিতে বাদাম চাষ করা হয়েছে; যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৬’শ টন। আর বর্তমানে প্রাকৃতিক দুযোর্গের কারণে অর্ধেকের কম উৎপাদন হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।’
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. হযরত আলী বলেন, ‘জেলায় এ বছর ৫ হাজার ৯৫২ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। বর্তমানে অনেক ফসল সেচ দিয়ে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু বাদাম এমন একটা ফসল, যেখানে সেচের উপায় থাকে না। এতে তো আর মানুষের হাত নেই। কী আর করা? বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম