সিরাজগঞ্জে কৃষকের স্বপ্ন পূরণ, ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৭৮ হাজার টন
সিরাজগঞ্জে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এ জেলায় এবার ৮ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩’শ ৪৭ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে। একই সঙ্গে ১ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৭৮ হাজার মেট্রিক টন। এ বছর জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ তেমন হয়নি বলে এ ফলন বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।
শস্য ভান্ডার খ্যাত জেলার কৃষকদের বাড়িতে এখন সোনালী ধানের সমারোহ। ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধ ছড়াচ্ছে কৃষকের উঠান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার নয় উপজেলায় এ বছর ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছে কৃষক। এই মৌসুমে জেলায় ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে। তার বিপরীতে ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৬’শ ৯০ হেক্টর জমিতে বোরোর চাষ হয়েছে।
এর মধ্যে উফশী ২৮, ২৯,৩৩,৭৪ ও ৮১ এই জাতের ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৫’শ হেক্টর, হাইব্রিড এসিআই-১, ২, ৩ জাতের ১২ হাজার ৯’শ ৫০ হেক্টর ও সিনজেনটা (হিরা) ১, ২, ৩ ও ৪ জাতের ২ হাজার ২’শ ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ মে) কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, কৃষকরা ইতোমধ্যে তাদের কাঙিক্ষত ৭০ ভাগ সোনালী ধান কেটে ঘরে তুলেছে। বাকি অংশ আবহাওয়া ভালো থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে ঘরে তুলবে কৃষক। এই ধান ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলো। ওইসব কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে জেলার ১ লক্ষ ৪০ হাজার ২’শ ১০ জনকে বিভিন্ন ফসলের বীজ বিন্যামূলে এবং নিয়মিতভাবে রোগ ও পোকার আক্রমণ সংক্রান্ত পূর্বাভাস জরিপ কাজে মাঠে ছিলো কৃষি কর্মকর্তারা। এসব কাজ ছাড়াও জেলায় ২০৬ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকের জমিতে ফসলের তদারকিসহ নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রম্মগাছা ইউনিয়নের দৈবজ্ঞগাঁতী গ্রামের ধানচাষি জয়নাল সেখ জানান, এবার ১২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি। গত বোরো মৌসুমে ৮ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে ছিলাম। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানও খুব ভালই হয়েছে। প্রতিটি শীষ ক্ষেতে সোনার মত জ্বলছে। ধান কাটা প্রায় শেষ, বাজারে ভাল দাম পেলে লাভবান হতে পারবো।
তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের মোকাদ্দেস ইসলাম আপন বলেন, এবার ৪ বিঘা জমিতে ধানের চাষ করেছিলাম। এর মধ্যে ব্রি-২৮ জাতের ধান ছিলো ২ বিগা। বাকি ২ বিগা ২৯ জাতের। ভাল ফলনে এবার স্বপ্ন দেখছি ভাল দামের।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পোকা মাকড়ের উপদ্রূপ ছাড়াই কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকের মাঝে গিয়ে নানা পরামর্শ দিচ্ছে। এবার ধানের বাম্পার ফলনও হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. আবু হানিফ বার্তা বাজারকে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বেশি ফলন পাওয়ায় আশায় কৃষক এখন হাইব্রিড ও উফশী জাতের ধানের আবাদ বেশি বেশি করছে। ফলে বাম্পার ফলন পাচ্ছে। বাজারে এসব ধানের দাম ভাল পেলে কৃষকের স্বপ্ন শতভাগ পূরণ হবে।
এম এ মালেক/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম