রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ক্লু-লেস একটি হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৮ দিনের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন, ঘাতককে গ্রেফতার ও মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশীট) আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশে এত স্বল্পতম সময়ের মধ্যে কোন ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেফতার ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের ঘটনা বিরল বলে দাবি করা হয়েছে।
শুক্রবার গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ চার্জশিট প্রদানের কথা জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, নিখোঁজের ৩ দিন পর গত ১০ মে,২০২১ মঙ্গলবার দুপুরে নাসির ইসলাম নয়ন (২০) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ।
পাশ্ববর্তী মঙ্গলপুর গ্রামের মশিউর রহমান নামে এক ব্যাক্তির নির্মানাধীন বাড়ির পিছনে বালির নিচে পুতে রাখা অবস্হায় নয়নের লাশ উদ্ধার করা হয়। নয়ন উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দুদুখান পাড়ার শাহজাহান শেখের ছেলে।
এ ঘটনায় নয়নের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে পরদিন ১১ মে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় কারো নাম উল্লেখ না করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এর ৫ দিন পর গত ১৬ মে রবিবার পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র ঘাতক মানিক হোসেন ওরফে আজমীরকে (১৮) গ্রেফতার করে।সে উজানচর ইউনিয়নের দরাপের ডাঙ্গীর হিরু শেখের ছেলে।সে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
এ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মুরাদ হোসেন জানান, আসামী মানিক হোসেন ওরফে আজমীরকে গত ১৭ মে সোমবার রাজবাড়ীর চীফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক সুধাংশু শেখরের আদালতে হাজির করা হলে সে হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।
ঘটনার বিবরণে তিনি বলেন, ঘটনার রাতে মানিক ও নয়ন একসাথে বসে তারি খায়।এরপর তাদের মধ্যে মাতলামি ভাব আসলে একটা বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।এ পর্যায়ে আসামী মানিক
নয়নের মাথার পিছন দিকে সজোরে আঘাত করে। এতে সে লুটিয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণ পর মারা যায়। এরপর লাশ গোপন করার জন্য সে একটি কোদাল জেগার করে নিজেই মশিউর রহমানের বাড়ির পিছনে বালির নিচে পুঁতে রাখে।এ হত্যাকাণ্ডের সাথে সে ছাড়া আর কেউ জড়িত ছিল না বলেও আদালতকে জানায়।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মুরাদ হোসেন আরো জানান, গত এ মামলার তদন্ত শেষ করে তিনি মাত্র ৮ দিনের মধ্যে গত ১৯ মে বিজ্ঞ আদালতে আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র (নং-১৪৫) দাখিল করেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বার্তাবাজারকে বলেন, মাত্র ৮ দিনে এ ধরনের একটি ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আদালতে চার্জশিট প্রদানের ঘটনা বাংলাদেশ পুলিশে বিরল ঘটনা। এ মামলার বিষয়ে পুলিশের ঢাকা রেন্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান (বিপিএম বার, পিপিএম বার) এবং রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এমএম শাকিলুজ্জামান স্যার তাদেরকে যথাযথ দিক নির্দেশনা দেয়াসহ সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন বলে তিনি জানান।
মেহেদী হাসান রাজু/বার্তাবাজার/ভিএস