এ পর্যন্ত আশি হাজার সাভারবাসী করোনার টিকা নিয়েছেন

প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ মিলিয়ে এ পর্যন্ত আশি হাজার সাভারবাসী করোনার টিকা গ্রহন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ মে) সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে টিকা কার্যক্রম পরিদর্শন কালে একথা জানান সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সাভার উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা।

এসময় তিনি বলেন, এপর্যন্ত ১ম ও ২য় ডোজ মিলিয়ে সাভারে মোট ৮০ আশি হাজার সাভারবাসী করোনার টিকা নিয়েছেন। এছাড়া সতের হাজারের অধিক করোনার নমুনা সংগ্রহ করেছি, তার ভিতর প্রায় আড়াই হাজার পজিটিভ কেস আমাদের রয়েছে।

আর এই টিকা কার্যক্রম ও নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুইটি আলাদা স্থানে এজন্য সরিয়ে এনেছি, যাতে পজিটিভ ও নেগেটিভ মিলে সংক্রমনের হার না বেড়ে যায়। এসবের পাশাপাশি সাধারণ রোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ইনডোর, আউটডোর ও সিজারিয়ান সহ সকল স্বাস্থ্য সেবা গ্রহন করছেন। আমাদের বর্তমানে কৃষির ওষুধ খাওয়ানোর কার্যক্রম চলছে, পাশাপাশি ইপিআই কার্যক্রমও আমরা চালিয়ে যাচ্ছি।

ডা. হুদা আরও জানান, করোনার শুরু থেকে এপর্যন্ত একদিনের জন্যও আমাদের সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিলোনা। এখন যেহেতু ঈদের পর, আমরা আশঙ্কা করছি সংক্রমণের হার একটু বাড়তে পারে। তবে এটা রোধে আমরা সাভারে চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রত্যেকটা সেক্টরের যারা প্রধান যেমন- বাজার কমিটি, মসজিদ কমিটি, মার্কেট কমিটি, হুজুর তথা ইমামদের কমিটি এদের প্রধানদের নিয়ে আমরা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি বসবো। এছাড়াও গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট কমিটি ও মালিকদের সাথেও আমরা বসবো। শুরুতে আমরা যেভাবে কাজ করেছি যেমন- আলাদা আলাদা বুথ স্থাপন, শ্রমিক যেখানে বেশী সেখানে তাদের জন্য আলাদা বাসা ভাড়া নেওয়া, তাদের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান ভাড়া নেওয়া এবং নমুনার বুথ বাড়ানো সহ র‍্যাপিড এন্টিজেন্ট আমরা করে যাচ্ছি। এসকল কার্যক্রম সাভারে চলমান আছে এবং থাকবে। আমি বিশ্বাস করি যদি আমরা এভাবে কাজ করি, ইনশাআল্লাহ সাভারে ওইরকম ভয়ানক কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবেনা।

সাভারবাসীর উদ্দেশ্যে এসময় ডা. সায়েমুল হুদা জানান, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে নাগরিকের দায়িত্ব কি? নিজের সিকিউরিটির জন্য একটি মাস্ক পরা, সেটাও যদি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা দিয়ে আমাদের পরতে হয়, এরচেয়ে দুঃখজনক বিষয় আর কি হতে পারে? যাকে জরিমানা করা হলো, তার ছেলেমেয়ে কিংবা আত্মীয়স্বজন টিভিতে দেখবে ম্যাজিস্ট্রেট পাঁচশো’ টাকা জরিমানা করে তাকে মাস্ক পরতে বাধ্য করেছেন! তাই বলবো, রাষ্ট্রকে যদি ভালোবাসেন, মাস্ক নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করবেন। এর জন্য কেন আমাকে মোবাইল কোর্ট ব্যবহার করতে হবে? এই জায়গায় আমরা ব্যর্থ।

এসময় সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই বিষয়গুলো আপনারা ব্যপকভাবে প্রচার করবেন। একজন নাগরিক হিসেবে আমি নিজে সহ আমার বাবা-মা, স্ত্রী, ছেলেমেয়ে এদের সবার দায়িত্ব আমার। একজন নাগরিকের তো সমগ্র রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেবার প্রয়োজন নেই। ষোলো কোটি মানুষ যার যার নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব নিলেই যথেষ্ট।

ডা. সায়েমুল হুদা সাভারবাসী সহ সমগ্র দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, মাস্ক পরিধান করুন, যতটুকু সম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন এবং খাবার আগে ও বাইরে থেকে এসে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। ইনশাআল্লাহ করোনা মোকাবেলায় আমরা সক্ষম হবো।

এদিকে, অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে টিকা কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন কালে কথা হয় রঞ্জিত কুমার দাস এর সাথে। তিনি করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহন করতে অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে এসেছেন। সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, খুব সুন্দর পরিবেশে টিকা কার্যক্রম চলছে। বিশেষকরে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সরিয়ে এই অধর চন্দ্র স্কুলে টিকা কার্যক্রম নিয়ে আসায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। কোনো ভীড় নেই, লাইনে বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছেনা। সুন্দর ও সাবলীল ভাবে সবাই টিকা নিতে পারছেন।

ভাকুর্ত ইউনিয়ন থেকে করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিতে এসেছেন মোঃ শাহ আলম। তিনি জানালেন, টিকার প্রথম ডোজ সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়েছিলাম, তখন খুব ভীড় ছিলো এবং অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছিলো। তাই ভেবেছিলাম এবারও না জানি কতক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কিন্তু এই স্কুলে এই সেবা গ্রহন করতে এসে অল্প সময়েই টিকা নিতে পেরেছি। আর, করোনার নমুনা নেয়া হচ্ছে আলাদা জায়গায়, এজন্য যারা পজিটিভ তাদের সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হবার ভয়টাও নেই এখন।

কথা হয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাভার যুব রেড ক্রিসেন্ট দলের সদস্যদের সাথে। এরা টিকা কার্যক্রমে ‘ভলান্টিয়ার’ হিসেবে কাজ করছে। তারা জানিয়েছে, টিকা প্রদানের শুরু থেকেই তারা এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত। শুরুতে যখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তারা কাজ করতো, তখন সেখানে অল্প জায়গা থাকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সহ তাদের নিজেদের আক্রান্ত হবার ঝুঁকির বিষয়টিও ছিলো। পাশাপাশি সরকারি এই স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে সাধারণ রোগী এবং তাদের আত্মীয়স্বজনদেরও আক্রান্ত হবার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছিলো। এখন অধর চন্দ্র বিদ্যালয়ে টিকা কার্যক্রম নিয়ে আসায় এবং সাভার সরকারি কলেজে করোনার নমুনা সংগ্রহ করায় সমগ্র কার্যক্রমটি বেশ গতিশীল হয়েছে।

আল মামুন খান/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর