প্রধান শিক্ষকের প্রতিহিংসার কারণে সাত শিক্ষার্থীর শিক্ষা-জীবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

প্রধান শিক্ষকের অপেশাদারিত্ব আর প্রতিহিংসার কারণে সাতক্ষীরার সাত শিক্ষার্থীর শিক্ষা-জীবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়লেও সাতক্ষীরার দেবনগর বেগম রোকেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা না নিয়েই দ্বায়সারা দায়িত্ব সেরেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার।

সূত্র জানান, কোভিড ১৯ এর কারণে এবছর নির্বাচনী পরীক্ষা ছাড়াই সকল এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ফরম পূরণের নির্দেশনা দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কিন্তু সে নির্দেশনা উপেক্ষা করে হঠাৎ একদিন ‘আকস্মিক’ নির্বাচনী পরীক্ষা নেন প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান। অথচ পরীক্ষার দিন স্কুলে আসার আগ পর্যন্তও কোন শিক্ষার্থী ওই নির্বাচনী পরীক্ষার বিষয়ে অবগত ছিলো না।

সেদিন তড়িঘড়ি করে স্কুল থেকে খাতা এবং কলম সরবরাহ করে করোনা মহামারীর তোয়াক্কা না করেই একসাথে তিন বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

ওইদিন পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পরে আবার প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয় নির্বাচনী পরীক্ষা।

ওই পরীক্ষার ফলের উপর ভিত্তি করেই সাত শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ আটকে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সবুজ সরকার ও মৌ সরকার জানান, পরীক্ষার হলে বসার আগ পর্যন্তও তারা জানতো না এবার নির্বাচনী পরীক্ষা হবে।

হঠাৎ একদিন আমাদের স্কুলে ডেকে স্কুল থেকেই খাতা-কলম দিয়ে পরীক্ষা দিতে বলা হয়। সেদিন অর্ধেকের মতো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলো। বাকিদের পরে আবার একদিন হেড স্যারের বাড়িতে ডেকে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

তারা আরও জানান, আমরা যদি এতোই খারাপ ছাত্র হবো তাহলে আমরা দশম শ্রেণিতে কি করে উত্তীর্ণ হলাম। নিশ্চই পরীক্ষায় পাস করেই আমরা উত্তীর্ণ হয়েছি।

ফরম পূরণ করতে না পরা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ধারণা করছেন তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার জন্য শিক্ষকরা ফরম পূরণ করা নিয়ে তালবাহানা করছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে ৭ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না তারা খুবই দুর্বল মানের শিক্ষার্থী।

নির্বাচনী পরীক্ষায় তারা খুবই কম নম্বর পেয়েছে। তাদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দিলে তারা নিশ্চিত ফেল করবে। পাশের হার সরকারি নীতিমালার নিচে আসলে দীর্ঘ ১৮ বছর পর এমপিওভুক্ত হওয়া স্কুলটির এমপিও বাতিল হতে পারে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো রকম ঝুঁকি নিয়ে ওই ৭ জনকে পরীক্ষার হলে পাঠাতে চান না।

জেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, আমি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং করেছি। তাদেরকে আমি ওই ০৭ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ করে দিতে বলেছি। মিটিং-এ তারা ওই শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করে দেওয়ার ব্যাপারে পজেটিভ ছিলো। পরে খোঁজ পেলাম তারা এখনো ফরম পূরণ করেননি।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক ফারহানা নাজ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। যা করতে হবে নির্দেশনা মেনে করতে হবে। এবার যারাই রেজিষ্ট্রেশন করেছে সবার ফরম পূরণ করতে হবে।

শাওন আহমেদ সোহাগ/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর