গরুর কাঁচা গোবরের সূত্র ধরে ৫ জন কে আটক করেছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের চুরি হওয়া দুইটি গরু।
এছাড়াও জব্দ করা হয়েছে চুরির কাজে ব্যবহারিত একটি মিনি ট্রাক, একটি বোল্ড কাটার, লোহার শাবল ও সিধ কাঠি।
আটককৃতরা হলো, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে ট্রাক চালক সাজু মিয়া (২৭) ও একই উপজেলার কামদিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত কেফায়েতুল্লার ছেলে মজনু মন্ডল (৫৫) এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার নামাকাঠাল হরিনাথপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে
মিজানুর রহমান (৪৪)।
অপর দুজন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর গ্রামের মৃত হাছেন আলীর ছেলে সাহেব মিয়া (৩৮) এবং সিংড়া বেড়ীভিটা গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে সাইদুল ইসলাম (৪৫)।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার (১৮ মে) ভোররাতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবের নেতৃত্বে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সারোয়ার জাহান সঙ্গীয় ফোর্স সহ দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের কারিগরী কলেজ এলাকায় চেকপোষ্ট স্থাপন করে গাড়ী তল্লাশী করছিল।
এ সময় দিনাজপুর থেকে গোবিন্দগঞ্জ গামী সবুজ রঙ্গের একটি মিনি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ড-১২-০৩৬৪) কে থামিয়ে তল্লাসী চালালে, ট্রাকের পেছনে গরুর কাঁচা গোবর দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের।
পরে পুলিশ ওই মিনি ট্রাকের চালক এবং তার সহযোগীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, তারা গরু চুরির কথা স্বীকার করে। আটক দুজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করতে ঘোড়াঘাট উপজেলার সূজা মসজিদ এলাকার এসাহাক আলীর ছেলে আব্দুল করিম মিয়া (৩২) এর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
তবে পুলিশ আসার আগেই করিম স্বপরিবারে গরু নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ প্রযুক্তির সহযোগীতায় করিমের অবস্থান শনাক্ত করে গরু ক্রেতার ছদ্মবেশে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ধরমপুরার মোড় এলাকা থেকে হাটে নিয়ে যাওয়া অবস্থায় দুটি গরু উদ্ধার করে এবং আরো তিন জনকে আটক করে।
পুলিশ আরো জানায়, আটক ব্যক্তিরা দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার উত্তর লক্ষীপুর (চিলাপাড়া) গ্রামের আদিবাসী যোগেন সরেনের বাড়ির দেয়ার কেটে দুটি গরু চুরি করে নিয়ে এসেছিল। গরু উদ্ধারের পর আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গরুর মালিককে খবর দিলে, সে ঘোড়াঘাট থানায় এসে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন।
মামলার বাদী এবং চুরি হওয়া গরুর মালিক যোগেন সরেন বলেন, “প্রতিদিনের মত হামি সোমবার সন্ধায় গরু গুলা গোয়ালেত তুলে ঘুমাছি। সকালে উঠে দেখি গোয়ালেত হামার গরু নাই। হামার বাড়ির দেয়াল ভাঙ্গা চোর গরু নিয়ে গেছে। অনেক খোঁজাখুজি করছি। কিন্তু কোনোটে হামার গরু খুঁজে পাইনি।”
“মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ দেখি আমার বাড়িত পুলিশ এসে আমাকে খুজছে, তোমার গরু হারিয়েছে? আমি বললাম হ্যা। পরে পুলিশ আমাকে বললো ঘোড়াঘাট থানায় যাও। তোমার গরু সহ গরু চোর ধরছে পুলিশ। পরে আমি ঘোড়াঘাট থানায় গিয়ে ৯ জন চোরের নামে মামলা করেছি।”
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, আটক ব্যক্তিরা আন্তঃ জেলা চোর চক্রের অন্যতম সদস্য। তারা দীর্ঘদিন থেকে গরু চুরির সাথে জড়িত। আসন্ন কুরবানীর ঈদকে কেন্দ্র তারা সরব হয়ে উঠেছে। আটক ব্যক্তিদেরকে আজ বুধবার (১৯ মে) সকালে দিনাজপুরের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা
হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত করছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) খুরশীদ আলম। পলাতক চার জন আসামীর মধ্যে ৩নং আসামী জুয়েল রানা (২৩) কে ডাকাতি মামলায় এজাহারভূক্ত আসামী হওয়ায় হাকিমপুর থানা পুলিশ গত মঙ্গলবার (১৮ মে) গ্রেপ্তার করেছে। পলাতক অপর তিন জন আসামীকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান
অব্যাহত আছে। ২নং আসামী এই চক্রের সর্দার।
তার বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম, রংপুর এবং দিনাজপুরের বিভিন্ন থানায় চুরি- ডাকাতির ৫টি মামলা আছে। মামলার বাদী আদালতে গিয়েছেন। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশক্রমে গরু দুটি বাদীকে হস্তান্তর করা হবে।
লোটাস আহম্মেদ.বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম