শেরপুরে ঝুকি নিয়ে ট্রাকে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ
বগুড়ার শেরপুরে ঈদের ছুটি শেষে চরম ভোগান্তি ও জীবনের ঝুকি নিয়ে ট্রাকে করে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ট্রাক, মিনি ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাসই একমাত্র ভরসা ঢাকামুখী নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের। চাকরী বাঁচাতে কর্মস্থলে যেতে যেকোন উপায় অবলম্বন করতে প্রস্তুত রয়েছে তারা।
সরেজমিনে শেরপুর পৌর শহরের ধুনটমোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ট্রাকের ভিতর গাদাগাদি করে রোদ-বৃষ্টি ও প্রচন্ড গরমকে উপেক্ষা করে কর্মস্থল ঢাকায় যাচ্ছে মানুষ। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীবাহি বাস পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার উদ্যেশ্যে রওনা দিলেও বিভিন্ন চেকপোষ্টে বাস থামিয়ে যাত্রি নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এসব যাত্রীরা আরও বিপাকে পড়ছে।
একদিকে ভোগান্তি অন্যদিকে বাড়তি টাকা গুণতেও হচ্ছে তাদের। যাত্রীরা বলছে, চাকরি বাঁচাতে যেকোন উপায়ে তাদের ঢাকায় যেতেই হবে।
যাত্রী আজগর আলী জানান, গণপরিবহন বন্ধ। কিন্তু চাকরি বাঁচাতে ঢাকা যেতেই হবে। বাধ্য হয়ে ভেঙে ভেঙে যাচ্ছি। এতে যেমন ভোগান্তি হচ্ছে তেমনি দ্বিগুণ টাকাও গুনতে হচ্ছে। গার্মেন্টসে চাকুরী করি সময়তো না গেলে চাকরি থাকবে না। তাই ছোট ছোট ছেলে- মেয়েকে নিয়ে ট্রাকে করে যেতে হচ্ছে।
খামারকান্দি থেকে আসা ধুটমোড় থেকে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ট্রাকে ওঠা যাত্রি সুজন মিয়া জানান, এখন মহাবিপদে পড়ে গেছি। তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর ট্রাকে উঠে রওনা হচ্ছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই যেতে হচ্ছে। করোনার কারণে বাস বন্ধ। কিন্তু ট্রাকে যেভাবে গাদাগাদি করে যেতে হচ্ছে তাতে বাস চালু থাকলে ভালো হতো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাওয়া যেতো। ট্রাকে তো স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই নেই।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এ কে এম বানিউল আনাম জানান, নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা চেকপোষ্টে কোচ থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে কোচ ফেরত পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু ট্রাকে হাজার হাজার মানুষ পার হয়ে যাচ্ছে।
রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম