৬ লাখ কোটি টাকার অধিক হচ্ছে ৫০তম বাজেট

৬ লাখ কোটি টাকার অধিক হতে যাচ্ছে দেশের ৫০তম বাজেট। একই সঙ্গে থাকছে সর্বোচ্চ ঘাটতিও। মহামারি তাই আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে স্বাস্থ্যখাত, ভ্যাকসিন কেনায় থাকবে বিশেষ বরাদ্দ।

সেই সঙ্গে অর্থনীতি পুনর্গঠনে কর্মকৌশলের দিকনির্দেশনাও থাকবে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া, গতানুগতিক বাজেট দিয়ে মহামারির আঘাত মোকাবিলা সম্ভব হবে না।

এক মহামারি বদলে দিয়েছে সব হিসাব নিকাশ। এখন দারিদ্র্য কমার বদলে, বাড়ছে গরীব লোকের সংখ্যা। ভিশন ২০২১, কিংবা, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকি পরিকল্পনা- কোনটিতেই এমন দুর্যোগের শঙ্কা ছিলোনা। তাই অতিমারি মোকাবিলায়, কৌশল ঠিক করতে সরকারের প্রথম সুযোগ ছিলো বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে। ২য় সুযোগ আগামী বাজেট।

সিপিডি সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন,’গত বছরের বাজেটের সময় অনেকেই বলেছিলেন যে, একটি মধ্য মেয়াদী কৌশলপত্র দিয়ে এটাকে তৈরী করা উচিত। তখন নীতি প্রনেতারা তিরস্কার করে ছিলেন। এ অতিমারির সময় এ মনোভাবের পরিবর্তনটা প্রত্যাশিত ছিলো। গত বছর এটা দেখিনি। এ বছর এটা দেখতে পাবো এখনও পর্যন্ত এমন কোন অগ্রীম সঙ্কেত পাইনি।’

অর্থমন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, আগামী বাজেট হতে যাচ্ছে ৬ লাখ ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। অর্থের যোগান দিতে, তিন লাখ ৩০ হাজার ৭৮ কোটি টাকা আদায় করতে হবে এনবিআরকে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার ৩শ’ ২৪ কোটি টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন,’স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এ বছর বেশি টাকা দেয়া হয়েছে এবং এবারও দেয়া হবে সেই নিশ্চয়তা দিতে পারি। ভ্যাকসিন প্রকিউরমেন্টের জন্য একটা অর্থ ধরে রাখা হবে বলে আমরা ধারণা। সামাজিক নিরাপত্তার জন্য আমরা যে টাকা দিচ্ছি সেটার সংখ্যা বাড়ানো হবে।’

সিপিডি সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য আরও বলেন,’এই টাকাটা খরচ হয়ে আসলেই মানুষের উপকার হলো কিনা সেটা মূল্যায়ণ করার কোন পদ্ধতি নেই। যে পরিবিক্ষণ বিভাগ আছে তারা দেখে ১০টাকা খরচ করার কথা ছিলো ৯টাকা খরচ করা হয়ে গেছে। ৯০ শতাংশ অর্জন হয়ে গেছে। এটা একটা ভাওতাবাজি ছাড়া কিছু না। ৯০ শতাংশ ব্যায় করে মানুষের নয় শতাংশ উপকার হলো কিনা তার কোন মূল্যায়ণ নেই। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সরকার না আনতে পারে, তাহলে সর্বাপেক্ষা বড় বরাদ্দ এগুলো বাগাড়াম্বর ছাড়া আর কিছুই না।’

সবচেয়ে বড় বাজেটে, ঘাটতিও হচ্ছে সর্বোচ্চ। ২ লাখ ১৩ হাজার ৮০২ কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে ব্যাংকঋণ নেয়া হবে ১ লাখ কোটি টাকা। ২৫ হাজার কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র থেকে। বাকি ৮০ থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকা বিদেশী ঋণ নিতে চাচ্ছে সরকার।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আরও বলেন,’ধার যে কোন সরকারই করে। ধারে ভয়ের কোন ব্যাপার নেই। ভয়ের ব্যাপার হলো মিসম্যানেজমেন্টে।’

করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব মাথায় রেখে, এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নির্ধারণে সংযত হচ্ছে সরকার। আগামী অর্থবছরে এ লক্ষ্য থাকবে ৭ শতাংশের ঘরে।

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর