স্পোর্টস রিপোর্টার: বিশ্বকাপের ২৮তম ম্যাচে হট ফেবারিট ভারতের বিপক্ষে খেলছে টেবিলের তলানীর দল আফগানিস্তান। ইংল্যান্ডের সাউথহ্যাম্পটনে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি শুরু হয়।
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। চলমান বিশ্বকাপের এই আসরে ৪টি ম্যাচের মধ্যে ভারত জয় পেয়েছে ৩টিতে আর অপর ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ চারে আছে ভারত। অন্যদিকে ৫টি ম্যাচ খেলে পাঁচটিতেই হেরেছে আফগানিস্তান। যার ফলে পয়েন্ট টেবিলের তলানীতে তাদের অবস্থান।
শুরুতেই রোহিত শর্মার উইকেট হারিয়ে হোঁচট খায় কোহলির দল। দলীয় ৭ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ১ রান নিয়ে ,আফগান স্পিনার মুজিবের বলে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। তারপর রাহুল কে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন দলপতি বিরাট কোহলি। তবে বেশিক্ষন টিকে থাকতে পারেননি রাহুল। দলীয় ৬৪ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ৩০ রান নিয়ে, আফগান স্পিনার নবীর বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
যার ফলে চাপে পড়ে ভারত। আর সেই চাপ কিছু সময়ের জন্যে সামলে নেন বিজয় সংকর এবং বিরাট কোহলি। ভালোই খেলছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। হটাৎ খেই হারিয়ে ফেলেন বিজয় সংকর। দলীয় ১২২ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ২৭ রান নিয়ে ,আফগান বোলার রহমত সাহার বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন সংকর ।
তারপর ম্যাচের লাগাম ধরেন ধনী-কোহলি জুটি । কিন্তু বেশিক্ষন ধনীকে সঙ্গ দিতে পারেননি ভারতীয় দলনেতা। দলীয় ১৩৫ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ৬৭ রান নিয়ে ,আফগান বোলার নবীর দ্বিতীয় শিকার হয়ে হয়ে মাঠ ছাড়েন কিং কোহলি।
কোহলির আউটের পর ম্যাচের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে ধোনির কাঁদে। ভালোই সামলে নিচ্ছিলেন সেই দায়িত্ব। ধোনি আর কেদার যাদব মিলে গড়েন ৫৭ রানের অবিচ্চিন্ন জুটি। দলীয় ১৯২ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ২৮ রান নিয়ে, আফগান বোলার রশিদের শিকার হন ধোনি।
ধোনির বিদায়ের পর ভারতীয় সমর্থকেরা আশা করেছিল পান্ডিয়া মারকুটে ব্যাটিং করে কিছু রান এনে দিবেন। কিন্তু সেই আশাকে হতাশায় রূপান্তরিত করে ৯ বলে ৭ রান নিয়ে আউট হন এই ড্যাসিং ব্যাটসম্যান ।
৫০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২২৪ রান। আফগানিস্তানের পক্ষে ২ টি করে উইকেট নেন গুলবাদিন নায়েব এবং নবি ।
২২৫ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে, দেখে শুনে শুরু করে আফগান দুই ওপেনিং ব্যাটসম্যান। হাজরাতুল্লা জাজাই এবং গুলবাদিন নায়েব। এই দুজনের নিয়ন্তীতি ব্যাটিংয়ে ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখছিলো আফগান সমর্থকেরা ।
কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নেই থেকে গেলো । দলীয় ২০ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ১০ রান নিয়ে, ভারতীয় বোলার শামির শিকার হন হাজরাতুল্লা জাজাই ।
তারপর ভালোই প্রতিরোধ গড়ে তুলেন গুলবাদিন নায়েব এবং রহমত শাহ জুটি । এই দুজনে মিলে করেন ৪৪ রান । দলীয় ৬৪ রানে মাথায় ব্যাক্তিগত ২৭ রান নিয়ে পান্ডিয়ার বলে আউট হন গুলবাদিন নায়েব ।
তারপর মাঠে আসেন হাসমুতুল্লা শাহিদী, রহমত শাহ কে সাথে নিয়ে ভালোভাবে মেরামত করছেন আফগানিস্তানের ইনিংস।
কিন্তু বেশিদূর যেতে পারেনি নাই এই দুই ব্যাটসম্যান,২৯তম ওভারে বুমরার ৪র্থ এবং শেষ বলে বিদায় নেন হাসমুতুল্লা শাহিদী এবং রহমত শাহ। এই দুজনে মিলে করেন ৪২ রান। হাসমুতুল্লা শাহিদী ২১ এবং রহমত শাহ করেন ৩৬ রান।
তারপর মাঠে আসেন আসগার আফগান এবং মোহাম্মদ নবি। কিন্তু বেশিক্ষন টিকে থাকতে পারেনি এই জুটি। দলীয় ১৩০ রানের মাথায় ব্যাক্তিগত ৮ রান করে আউট হন আসগর আফগান।
তারপর একে একে সাজঘরে ফিরে যান নাজিবুল্লা জর্দান এবং রাশিদ খান। আর এক প্রান্তে একাই লড়াই করে যান মোহাম্মদ নবী।ভালোই ব্যাটিং করছিলেন এই আফগান তারকা । ৪৭.১ ওভারে সময় আউট হয়েও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান নবি ।
শেষ ওভারে আফগানিস্তানের দরকার ছিল ১৬ রান হাতে ছিল ৩ উইকেট। শেষ ভরসা হিসাবে উইকেটে ছিলেন নবি। বোলিং এ আসেন সামি, প্রথম বলেই ৪ মেরে জয়ের ইঙ্গিত দেন নবি।
তখন ৪ বলে প্রয়োজন ১২ রান ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি মারতে গিয়ে ৬৮ বলে ৫২ রান করে আউট হন নবী। তখনি শেষ ভরসা টুকু হারিয়ে ফেলে আফগান সমর্থকেরা ।
শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভার শেষে ১০ উইকেটে ২১৩ রান তুলতে সক্ষম হয় আফগানিস্তান। যার ফলে ভারত জয়লাভ করে ১১ রানে। এরি সাথে এই বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নেন মোহাম্মদ সামি ।