ইসরাইলে হামলায় হামাসের ব্যবহৃত অস্ত্রসমূহ

ইসরাইলি নির্যাতনে অতিষ্ঠ ফিলিস্তিনবাসী। এর মধ্যে গাজা উপত্যকা অবরুদ্ধ আছে বহুদিন ধরে। ২০১৪ সালের পর থেকে হামাসের সাথে ইসরাইলের সংঘাতের ভয়াবহ রুপ প্রকাশ পেয়েছে। সম্প্রতি আল-আকসা মসজিদে হামলার পরে আবারও জ্বলে উঠেছে হামাস। মুহুর্মুহু হামলার নাস্তানাবুদ করেছে ইসরাইলকে।

ইসরায়েলের দাবি, গাজা থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে ছয় ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আটজন।

ইহুদিদের দাবি, বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালাচ্ছে হামাস। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিও বেশ শক্তিশালী।

হামাসের ব্যবহৃত অস্ত্রসমুহ-

হেভি মর্টার: হামাস বিভিন্ন ধরনের হেভি মর্টার ব্যাবহার করে থাকে। সাধারণত ৬ মাইল বা ১০কিলোমিটার রেঞ্জের হয় এই হেভি মর্টার।

কাসাম রকেট: তাদের সর্বাধিক ব্যাবহৃত রকেট হচ্ছে কাসাম রকেট। এর নির্মাণ ও ডিজাইন করেছে হামাস এর সামরিক উইং লাযয আদ-দ্দিন আল কাসাম ব্রিগেড। ২০০১ সালে সার্ভিস এ আসা এই রকেট হয়ে উঠেছে হামাসের প্রথম পছন্দ। এর বিভিন্ন ভেরিয়েন্ট আছে যা ৫কিলোমিটার থেকে ১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম। বেশিরভাগ কাসাম আয়রন ডোম এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দ্বারা ইন্টারসেপট হবার পরও ভালো হারে দখলদার ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

গ্রাড রকেট:পুরোনো মডেলের সোভিয়েত রাশিয়ার তৈরি গ্রাড রকেট ও হামাসকে ব্যাবহার করতে দেখা যায়। যা প্রধানত মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টে থেকে নিক্ষেপ করার জন্য তৈরি। যেগুলোর রেঞ্জ ৩০ মাইল বা ৪৮ কিলোমিটার এর মত হয়ে থাকে।

ফাজর ফাইভ: ফাজর ফাইভ নামক ৩৩৩ মিলিমিটার লং রেঞ্জ রকেট ও রয়েছে হামাস এর অস্ত্র ভান্ডারে। এটিও একটি মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেম এর জন্য তৈরি রকেট। যা অত্যন্ত কার্যকরী ভাবে ব্যাবহৃত হয়ে আসছে। এর রেঞ্জ ৪৫ মাইল বা ৬৮-৭৫ কিলোমিটার এর মত হয়ে থাকে।

এম থ্রই জিরো টু: সিরিয়ান মেড ৩০২মিলিমিটার খাইবার ১ বা এম থ্রি জিরো টু হামাস এর ব্যাবহৃত সবচেয়ে লং রেঞ্জ রকেট। যা চাইনিজ ডাব্লিউ এস ওয়ানের এর কপি। এটি প্রধানত একটি আনগাইডেড রকেট। এর রেঞ্জ ১০০ কিলোমিটার যা হামাসের সর্বোচ্চ রেঞ্জ। ২০০৬ সালে লেবানন যুদ্ধে হিজবুল্লাহ এর ব্যাবহার করে ইসরাইল এর ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

উল্লেখ্য বেশিরভাগ রকেট সিরিয়া, ইরান ও হিজবুল্লাহর উদ্ভাবিত হলেও কাসাম রকেট হামাসের নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত। এর কার্যকরীতাও বেশ সুবিধাজনক। সূত্রঃ মিলিটারি ডিফেন্স ফোরাম।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর