‘হ্যালো, আমি এ্যসিল্যান্ড স্যার বলছি। ডিসির নির্দেশে আজকে মোবাইল কোট পরিচলনা করা হবে সারা আনোয়ারায়। মোবাইল কোট পরিচালনা থেকে আপনাদের দোকান বাদ দিতে চান কি না? হ্যাঁ বা না একটা বলুন? সমস্যা না থাকলেও জরিমানা করা হবে ওপরের নির্দেশ। বসে কথা বলা যাবে না, এখুনি এ নাম্বারের বিকাশ আছে আপনি ৭০ হাজার টাকা দেন এখন’। ১০ মিনিট পর ফোন দিয়ে আবার বলেন, টাকা দিচ্ছেন কিনা, ঠিক আছে আমরা আসতেছি জরিমানা যা হয় তা সরকারকে দিয়েন।
এভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিচয়ে ভ্রাম্যমাণ আদলতের অভিযানের ভয় দেখিয়ে মুঠোফোনে ২ দোকান থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবীর ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নেয় রুস্তমহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদকে বিষয়টি জানালে এ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পায় দুই দোকানী।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, বুধবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান চৌধুরী পরিচয় দিয়ে বটতলী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সাইফুল ইসলামের কাছে (০১৬১০-৪৬৯৮০৫) মোবাইলে জানতে চাই বটতলী রুস্তম হাটে মিষ্টির দোকান কয়টি আছে। সাইফুল ইসলাম বনফুল ও আল মদিনা মিষ্টির দোকানের নাম বলার পর পরিষদের গ্রাম পুলিশ দিয়ে তাদের ফোন নাম্বার নিয়ে রুস্তমহাট বনফুল থেকে ৭০ হাজার টাকা ও আল মদিনা হোটেল থেকে ১ লাখ টাকা বিকাশের মাধ্যমে দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। টাকা না পাঠালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও জানায়। বিষয়টি তাদের সন্দেহ হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান চৌধুরীকে অবগত করেন এই ব্যবসায়ীরা।
ভূক্তভোগী রুস্তমহাট বনফুলের স্বত্ত্বাধিকারী মো. ফারুকুল ইসলাম জানায়, বেলা ১১টায় বটতলী ইউনিয়নের এক চৌকিদার এসে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কথা বলার জন্য আমার মোবাইল নাম্বার চাইলে আমি চৌকিদারকে নাম্বার দিয়। কিছুক্ষণ পর (০১৬১০-৪৬৯৮০৫) নাম্বার থেকে ফোন করে বলেন, আমি এ্যসিল্যান্ড স্যার বলছি। ডিসির নির্দেশে আজকে মোবাইল কোট পরিচলনা করা হবে সারা আনোয়ারায়। মোবাইল কোট পরিচালনা থেকে আপনাদের দোকান বাদ দিতে চান কি না? হ্যাঁ বা না একটা বলুন? তখন আমি বলি, আমি তো লিগ্যালে আছি। আপনি যদি আমার কোনো সমস্যা দেখতে পান তাহলে জরিমানা করিয়েন। সমস্যা না থাকলেও জরিমানা করা হবে ওপরের নির্দেশ। আপনি আসেন আমি বসে কথা বলব। বসে কথা বলা যাবে না, এখুনি এ নাম্বারের বিকাশ আছে আপনি ৭০ হাজার টাকা দেন এখন। যখন বলি আমার কাছে এত টাকা নাই তখন তিনি ৩০ হাজার টাকায় দিতে বলেন ফোনটা কেটে দেন।
১০ মিনিট পর ফোন দিয়ে আবার বলেন, টাকা দিচ্ছেন কিনা, আমার কাছে তো এত টাকা নেই আমার কাছে এক হাজার টাকা আছে। তখন তিনি ঠিক আছে আমরা আসতেছি জরিমানা যা হয় তা সরকারকে দিয়েন। আমার সন্দেহ হলে আমি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানায়।
বটতলী ইউপি সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, সকাল ১০টায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিচয় দিয়ে চৌকিদারের মাধ্যমে মিষ্টির দোকানের নাম্বার নিতে বলেন। আমি বিশ্বাস করে প্রথমে মিষ্টির দোকান গুলোতে চৌকিদার পাঠায়। পরে চাঁদা দাবীর বিষয়টি শুনে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেছি। পরে ঐ নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমদ জানান, উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর পরিচয় দিয়ে মোবাইল কোর্ট করার ভয় দেখিয়ে ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তি রুস্তমহাট ও চাতরী চৌমহনী বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতারণার মাধ্যমে চাঁদা দাবী করছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সুমন শাহ/বার্তা বাজার/এসজে