নামের তালিকা থাকলেও দরিদ্রদের টাকা দেননি ত্রাণ সমন্বয়কারী

বেনাপোল পৌরসভার অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে গত ৮ই মে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের সহয়তায় ৯টি ওয়ার্ডে ৪৬২১ জনকে ৪৫০ টাকা করে সর্বমোট ২০৭৯৪৫০ টাকা ঈদ উপহার নগত অর্থ প্রদান করা হয়। আর এই ঈদ উপহারের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪নং কাগজপুকুর ওয়ার্ডের ৫০০ জনকে দেওয়া টাকা বিতরণে অনিয়মের দেখা মিলেছে বেনাপোল পৌরসভার ত্রাণ সমন্বয়কারী শুকুমার দেবনাথের বিরুদ্ধে।

গতকাল মঙ্গলবার (১১ই মে) সরজমিনে বার্তা বাজার অনুসন্ধানী টিম কাগজপুকুর ৪ নং ওয়ার্ডে অনুসন্ধান চালালে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের নগত অর্থ বিতরণের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ও নমুনা মেলে অনুসন্ধানী দলের কাছে।

এলাকার লোকেরা কথার ছলে বার্তা বাজারকে বলেন, বেনাপোল পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের হত দরিদ্রদের তালিকার সমন্বয় করেছেন শুকুমার দেবনাথ। তিনি বেনাপোল পৌরসভার পার্টটাইম স্পটস কর্নারের দ্বায়িত্ব এবং পৌর মেয়রের প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছেন।

বেনাপোল পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহিলা কর্মি নুরজাহান জিগাসাবাদে বার্তা বাজারকে বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে ৫০০ জন দরিদ্র অসহায়দের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার প্রদান করেছেন পৌরসভা। কিন্তু আমাদের ওয়ার্ডে যে সব দরিদ্রদের নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে তারা টাকা পায়নি। সে জন্য আমি পৌরসভায় গিয়ে সুকুমার দাদাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমার সাথে অশ্লীল ভাষায় খারাপ ব্যবহার করেন। এছাড়া এই ওয়ার্ডে অনেকে একাধিক কুপন পেয়েছেন। পরে আমাকে অন্য লোকের নামে দুইটি কার্ড প্রদান করেন সুকুমার দাদার লোক নাছির উদ্দীন বাবু। তাছাড়া জানাজানি হলে কিছু কার্ড পৌরসভায় জমা দিয়েছে এই নাছির উদ্দীন বাবু।

ঈদ উপহারের বিষয়ে ৪ নং ওয়ার্ডের কোলনীর বাসিন্দা সেলিম হোসেন বলেন, যেখানে সাধারণ হত দরিদ্র মানুষ ১টি কার্ড পাচ্ছেন সেখানে কোলনীর মরা মানুষ আঃ রব তার নামে ৪টি কার্ড দিচ্ছে। বিষয়টির মধ্যে যে দূর্নিতী তা প্রকাশ্যে বুঝে ফেলেছে গ্রামবাসী। এছাড়াও প্রকৃত হত দরিদ্রদের কার্ড না দিয়ে তালিকায় তাদের আত্মীয়স্বজন মামা খালুদের নাম দিয়েছে।

বেনাপোল পৌরসভার নারী নেত্রী বিউটি বেগম বার্তা বাজার কে জানান, বেনাপোল ৪ নং কাগজপুকুর ওয়ার্ডের জন্য আমার কাছ থেকে সুকুমার দেবনাথের কথা বলে ৬০ জনের একটি তালিকায় স্বাক্ষর করিয়ে নেয় এই ও ০৪ নং ওয়ার্ডের নেতা নাছির উদ্দিন (বাবু)। কিন্তু ৬০ জনের মধ্যে মাত্র ২২ জনের নগত টাকার কার্ড প্রদান করেছে। বাকিরা কার্ড না পেয়ে উক্ত ওয়ার্ডের নারীরা আমার কাছে অভিযোগ জানালে আমি মেয়র মহোদয়কে জানাই, তখন তিনি লিষ্ট ভুক্তদের ডেকে নিজের তহবিল থেকে কিছু টাকা প্রদান করেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জিগাস্যাবাদের মধ্যে বলেন, শুকুমার দেবনাথের মতো একজন অর্থ লোভী মানুষ কিভাবে পৌরসভার এত বড় দ্বায়িত্ব পালন করে তা আমার বোধগাম্য নয়। এর আগে ২০১৪ সালে এ আর সিমেন্টের অর্থ প্রতারনার মামলায় তিনি জেল খেটেছেন সাড়ে ৮ মাস। তাছাড়া মন্দিরের অর্থ তসরুফেরও অভিযোগ আছে তার নামে। পৌরসভার কোন কর্মকর্তা না হয়েও পাচ্ছেন বেতন ভাতা।

শুকুমার দেবনাথের মুঠোফোনে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমি শুধু মাত্র পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সমন্বয়কারী হিসাবে কাজ করেছি। টাকা আত্মসাৎ কিংবা দুর্নীতির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বার্তা বাজার কে বলেন এটা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট যদি কারও নামের কার্ডের অর্থ মেরে থাকি তাকে সাথে নিয়ে এসে প্রমাণ দিন। পৌরসভায় কি দ্বায়িত্ব পালন করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি পৌরসভার স্পর্টস কর্ণারের পার্টটাইম কাজ করি এছাড়াও মেয়রের রাজনৈতিক সহযোগী হিসাবে কাজ করে থাকি। পৌরসভা থেকে বেতন পাওয়ার বিষটি জানতে চাইলে বলেন, মাস্টার রোলে সামান্য কিছু বেতন পায় বলে জানান এই অভিযুক্ত।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর আমিরুল ইসলামকে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও বার্তা বাজার কে বলেন, পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডের সমন্বয়কারী সুকুমারের নেতৃত্বে আমার ৪ নং কাগজপুকুর ওয়ার্ডে ১জন পৌর কর্মকর্তা ও ওয়ার্ডের নেতা নাছির উদ্দীন বাবু, মিন্টু,বাবলুকে নিয়ে লিষ্ট তৈরী করেছিলো। সেখানে কেমন শ্রেনীর লোকেদের নাম দেওয়ার এ বিষয়ে আমাকে প্রাধান্য দেওয়া হইনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বেনাপোল পৌরসভার সচিব রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর