কুমিল্লার হোমনা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাথমিকভাবে ৪৫ টি দোকান পুড়ে গেছে এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারোটায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর বাজারে গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী।
তারা জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে হোমনা ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুনের ভয়াবহতার কারণে পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী মুরাদনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিস এর গাড়ি এসে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ অগ্নিকাণ্ডে চাউলের দোকান, ওষুধের ফার্মেসি, তেলের দোকান, কাপড়ের দোকান, সারের দোকানসহ ৪৫ টি দোকান আগুনে পুড়ে যায়।
বাজার কমিটি সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চালের ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির জানান, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। দোকানে ২২ লক্ষ টাকার মালামাল ছিল, এখন আমি পথে বসে গেছি।
আগুন আমার সব শেষ করে দিল।
রামকৃষ্ণপুর বাজার কমিটির সভাপতি ও চান্দের চর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাশার মোল্লা বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪৫ টি দোকান পুড়ে গেছে।
এগুলোর মধ্যে চাউলের দোকান, ওষুধের ফার্মেসি, সারের দোকান, কাপড়ের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে চাল দোকান বেশি।
প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমরা বের করার চেষ্টা করছি কোন দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।’
হোমনা ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ওসমান গণি জানান, রামকৃষ্ণপুর বাজারে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাত বারোটার সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি।
আগুনের ভয়াবহতার কারণে মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেই। ৬ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। ততক্ষণে ৪৫টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমরা নিরূপণ করছি, কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমন দে জানান, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আমরা কাজ করছি। প্রাথমিকভাবে ৪০ টির বেশি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে ফায়ার সার্ভিস আমাদেরকে জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদিত হলে তাদের আমরা সাহায্য দিতে পারব।
মোঃ আসলাম/বার্তাবাজার/পি