বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১ হাজার ৬২৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (১১ মে) সকাল ৬ টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ যানবাহনগুলো পারাপার হয়েছে বলে সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ দিকে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মহাসড়কে আগের তুলনায় আজ যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। দূরপাল্লার বাস চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ঈদ উপলক্ষে ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ, মোটরসাইকেল ও মুরগির খাঁচার উপর বসে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও ভোগান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ। করোনার ভয়কে ভুলে ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ, প্রাইভেটকারে গাদাগাদি করে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ। যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও স্বাভাবিকভাবে চলছে। তবে মহাসড়কে যে কোন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ এবং ট্রাফিক পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।
মঙ্গলবার (১১ মে) সকাল-দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়কে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তায় দূরপাল্লার বাস নেই। তবে চাপ রয়েছে ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের। এসব যানবাহনে গাদাগাদি করে মানুষ যাচ্ছে। আবার সিএনজি বা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে চলাচল করছে মানুষ।
পিকআপ চালক সায়েদ মিয়া বার্তা বাজারকে বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে কোন যানজট নেই। অন্যান্য ঈদে চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইল আসতে ৫-৬ ঘণ্টা আবার কখনও আরো বেশি সময় লাগতো। আজকে এক ঘন্টায় চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইল এসেছি।
যাত্রী আসিফ খান বার্তা বাজারকে বলেন, বাস না থাকায় গাড়ি পেতে সময় লাগলেও টাঙ্গাইল আসতে তেমন সময় লাগেনি। ঈদকে সামনে রেখেও স্বাভাবিক সময়ের মতো টাঙ্গাইল পৌছাতে পারছি। অপর যাত্রী খালেদা বেগম বার্তা বাজারকে বলেন, বাইপাইল থেকে হাইসে আসলাম টাঙ্গাইলে। ভাড়া বেশি নিলেও কম সময়েই টাঙ্গাইলে এসেছি। মহাসড়কে গাড়ির চাপ আছে, তবে কোন যানজট নেই।
পিকআপের মুরগির খাচার উপর বসে যাওয়া সুলতান প্রামানিক বার্তা বাজারকে বলেন, ভোর ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, ট্রাক, পিকআপ ও মাইক্রো পেলেও ফাঁকা ছিলো না। তাই মুরগির খাচার উপর বসে ৮শ’ টাকা ভাড়া দিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। ঝুঁকি থাকলে বাড়ি গিয়েই ঈদ করবো পরিবারের সাথে।
এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও যানবাহন আটকে নেই। সড়কে কোন যানবাহন বিকল হলে তাৎক্ষনিক রেকার দিয়ে অন্যত্র সরানো হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, মহাসড়কে যানজট এবং যে কোন পরিস্থতি ঠেকাতে সাত শতাধিক পুলিশ সদস্য কাজ করছে। টাঙ্গাইলের অংশে এই মহাসড়ককে ৫টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে একজন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিন শিফটে পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, গণপরিবহনের ক্ষেত্রে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অনেক সময় মামলাও করা হচ্ছে। কোন গাড়ি না পেয়ে অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্য যেতে দেখা যাচ্ছে। আশা করছি এবার মহাসড়কে কোন যানজটের সৃষ্টি হবে না। তবে আজকে গার্মেন্ট ছুটি হবে। গার্মেন্ট ছুটি হওয়ার পরে মহাসড়কের পরবর্তী পরিস্থিতি বুজা যাবে। তবে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যরা সর্বাত্মক সচেতন রয়েছে ।
হাসান সিকদার/বার্তাবাজার/পি