ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ মুখোমুখি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রলিগের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
সোমবার (১০ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, দুপুর ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আলম, নেতা নাহিদুজ্জামান শিপনসহ তিন-চারজন রাজু ভাস্কর্য এলাকায় অবস্থান কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন দু’টি মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন ঢাবির শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা, ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত স্যার এ এফ রহমান হল সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আবদুর রহিমসহ চারজন।
তারা এসেই ছাত্রদলের কর্মসূচির জন্য থাকা ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। তখন ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আলমের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয় আমিরের। একপর্যায়ে মানসুরা আমিরের পায়ে লাথি মারেন। আমিরও তখন মানসুরাকে ধাক্কা দেন।
সেখানে থাকা লোকজনের বরাতে জানা যায়, ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের নিয়ে আসা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলেন ছাত্রলীগ নেতা আবদুর রহিম। ব্যানারে আগুন ধরিয়ে তা ফেলে দিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ছাত্রলীগের ওই চার নেতা-কর্মী। ঘটনাস্থলে কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত থাকলেও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা তাঁদের ছবি তুলতে বাধা দেন ও নিষেধ করেন।
এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একজন সংক্ষুব্ধ নারী হিসেবে মানসুরা আলম অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। এতে বাধা দিয়ে ছাত্রলীগ প্রমাণ করল যে প্রতিবাদ করার ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকারে তাঁদের বিশ্বাস নেই৷ এ ঘটনা ছাত্রলীগের পৈশাচিক চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।’
তবে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের ডাকা কর্মসূচিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রামী চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিকে প্রতিহত করবেন—এটাই স্বাভাবিক বলে আমরা মনে করি।’
বার্তা বাজার/এসজে