খালেদা জিয়ার করোনার যে রিপোটর্টি ভাইরাল হয়েছে সেটি ভুয়া
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার একটি করোনা পরীক্ষার রিপোর্টের ছবি ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তার জন্মদিন উল্লেখ করা হয়েছে ৮ মে। এই রিপোর্টটি ভুয়া বলে জানিয়েছে বিএনপি।
বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তাঁর কোভিড টেস্টের প্রতিবেদনের জন্ম তারিখ, বয়স এবং রিপোর্ট নম্বর পরিবর্তন করে নকল প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। যে রিপোর্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা সরকারের লোকজনের মুখে ছড়িয়েছে সেটি ভুয়া।
জানা যায়, ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষা করতে নমুনা দেওয়ার সময় বিএনপি’র পক্ষ থেকে তাঁর জন্ম তারিখ লেখা হয়েছিলো ১৫ অগাস্ট ১৯৪৬। অপরদিকে যে রিপোর্ট অনলাইনে ছড়ানো হয়েছে সেখানে জন্ম তারিখ দেখা যাচ্ছে, ৮ মে ১৯৪৬।
এছাড়া ল্যাবএইড থেকে পাওয়া রিপোর্টের নম্বর ১২১০৫৯৫৮৩৫৮ এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া রিপোর্টের নম্বর ১২১০৫৯৫৮৫৩৫। তবে ইনভয়েস নম্বর ও বারকোড একই।ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পাওয়া রিপোর্টে খালেদা জিয়া’র জন্ম তারিখ ১৫ অগাস্ট ১৯৪৬।
অনলাইন ফ্যাক্ট অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বিডি ফ্যাক্টচেক বলছে, রিপোর্ট দু’টির অন্যান্য বিষয় যেমন ইনভয়েস নম্বর ও বারকোড নম্বর আলাদা হওয়ার কথা ছিলো। বারকোড চেকার ও স্ক্যানডিট দিয়ে দু’টি কোভিড টেস্টের রিপোর্টের এইচএন বারকোড স্ক্যান করে দেখা গেছে, দু’টি রিপোর্টের বারকোড একই। অনলাইনে ছড়ানো টেস্ট রিপোর্টটির নম্বর যেহেতু ভিন্ন সেহেতু বারকোডও ভিন্ন হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এখানে তেমনটি হয়নি। অর্থাৎ, বেগম খালেদা জিয়া’র কোভিড টেস্টের যে রিপোর্টটি অনলাইনে দেখা যাচ্ছে সেটি আসলে নকল।
তবে ল্যাব এইড হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা করোনা রিপোর্ট ও ভাইরাল রিপোর্টের ইনভয়েস নাম্বার অভিন্ন। অনলাইনে ছড়ানো টেস্ট রিপোর্টটির নম্বর যেহেতু ভিন্ন সেহেতু ইনভয়েস নম্বরও ভিন্ন হতো। কিন্তু এখানে তেমনটিও হয়নি। অর্থাৎ, ৮ মে জন্মদিন দাবি করা বেগম খালেদা জিয়া’র কোভিড টেস্ট রিপোর্টটি ভুয়া।
বার্তা বাজার/এসজে