উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সরকারি হাসপাতালেরে এ্যাম্বুলেন্স চালক মৃত রফিকুল ইসলামের বেতনের টাকা উত্তোলন করতে না পেরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুর রহমানকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে চালকের ভাই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত (৯ মে) রোববার বিকেলে ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ হুমকির ঘটনাটি ঘটে। হুমকির বিষয়টি সাংবাদিকের নিশ্চিত করেছেন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুর রহমান।
খবর পেয়ে সরেজমিন গেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, সরকারী হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার ছিলেন মৃত রফিকুল ইসলাম। সে জেলা সদরের মৃত আমীর উদ্দিনের পুত্র। ১৯৯৭ সনের ৬ই মে উপজেলা সরকারি হাসপাতালের এমবুলেন্সটি গ্যারেজে থাকার সময়ে তার উপসিস্থিতি আগুন লেগে পুড়ে যায়। ঘটনার দিনই তৎকালীন সিভিল সার্জনের নির্দেশে চালক রফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়। সরকারি এমবুলেন্স পুড়ার ঘটনায় তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বাদী হয়ে ৪৩৫ দঃবিঃ মোতাবেক রফিকুলের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মোকাদ্দমা নং-৪(৫)১৯৯৭।
পরবর্তীতে দীর্ঘদিন ওই মামলার আসামী রফিকুল ইসলাম পলাতক বিধায় ফৌঃ কাঃ বিঃ ৩৩৯ বি-২ ধারায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্য্য চলছিল। রাষ্ট্র পক্ষ কোন সাক্ষী উপস্থাপন না করায় ফৌজদারীর কার্য্য বিধির ২৪৯ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ওই মোকাদ্দমার কার্যক্রম বন্ধ করে রফিকুল ইসলামকে খালাস প্রদান করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট দুর্গাপুর চৌকি’র বিজ্ঞ আদালত। বরখাস্ত থাকাকালীন সময়ে চালক রফিকুর ইসলাম অনাহারে/অর্ধাহারে মানবেতর জীবন পরিচালনা করছিলেন বলে জানান সরকারী হাসপাতালের বেশক’জন অফিস ষ্টাফ। ওই সময়ে নানা রোগ-ব্যাধি থাকা সত্বেও অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় চিকিৎসা করতে না পেরে ২০১৯ সনের মে মাসের ১৬ তারিখ চালক রফিকুল ইসলাম নিজ বাড়িতে মারা যান।
গত বছরের মে মাসের ১৬ তারিখ মৃত রফিকুলের নমীনি মা ছালেহা বেগম পেনশন, জিপিএফ ও লামব্রান্ডের টাকা উত্তোলনের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন দাখিল করে। ওই আবেদনের বিভিন্ন কাগজ-পত্রাদী পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পেনশন বাবদ ২১ লক্ষ ৭ হাজার ২শ ৬০,লামব্রান্ড ৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৪শ ৮০ টাকা ও জিপিএফ চূড়ান্ত ফান্ডের ২ লাখ ৫২ হাজার ৫৯ টাকা উত্তোলন করেন মা ছালেহা বেগম।
রফিকুল ইসলাম চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার দিন থেকে মারা যাওয়ার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত বকেয়া বেতন বিল বাবদ ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার ২শ ১১টাকা ১৭ পয়সা রেখে যান। ওই পাওনা টাকার জন্য নমিনী ছালেহা বেগম কোনরুপ আবেদন করেননি। মৃত ভাই রফিুকল ইসলামের রেখে যাওয়া টাকাটা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তড়িগড়ি করে উত্তোলনের জন্য মুঠোফোনে নানা সময়ে বিরক্ত ও গত রবিবার দুপুরে অফিস চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষা সহ হত্যার হুমকী দিয়েছেন মৃত রফিকুলের বড় ভাই আমিনুল ইসলাম। আমিনুল ইসলাম কলমাকান্দা উপজেলা প্রকৌশল অফিসের সাব-এসিসটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুর রহমানকে হত্যার হুমকীর বিষয়ে আমিনুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার ভাইয়ের বকেয়া বেতনের টাকা উত্তোলনের জন্য আমি উপজেলা হাসপাতালে যাই। অফিসে উনার সাথে জাষ্ট উচ্চ-বাচ্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমাকে দূর দূর করে অফিস রুম থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আমি ভাইয়ের বেতন তোলার বিসয়ে কথা বলতে যেতেই পারি।আমি ডা. মামুনুর সাহেবকে হত্যার হুমকি দেইনি।
হত্যার হুমকীর বিষয়ে আইনি কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মামুনুর রহমান প্রতিবেদকে জানান, আমি হুমকীর বিষয়টি সিভিল সার্জন স্যার সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। এ বিষয়ে ফারদার কোন হুকমীর ঘটনা ঘটলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজেশ গৌড়/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম