আশুলিয়ায় কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে ধান কর্তন
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের মনোহর এলাকায় সাভার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় ৫০% ভর্তুকিতে সরবরাহকৃত কম্বাইন হারভেস্টার এর মাধ্যমে ধান কর্তনের আয়োজন করা হয়।
রবিবার (৯ মে) দুপুরে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাজহারুল ইসলাম এর পক্ষে সাভার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান এমপি।
পাথালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ পারভেজ দেওয়ানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মঞ্জুরুল আলম রাজীব বলেন, কৃষকের কারণেই আজ বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমার সামনে যারা উপবিষ্ট আছেন, যাদের কারণেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কম্বাইন হারভেস্টর যন্ত্র সাভারে পাঠিয়েছেন, সাভার উপজেলার পক্ষ থেকে আমি তাদেরকে সালাম এবং অভিনন্দন জানাই। শিল্প-কারখানার মাধ্যমে এদেশের লক্ষ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়, অর্থনীতিতেও এক বিশাল অবদান রাখে, এটা একটা বিশাল ব্যাপার। কিন্তু তারচেয়েও অনেক বিশাল ব্যাপার হলো সোনার বাংলার কৃষক ভাইয়েরা! আপনারা ফসল ফলান, সেই ফসল আপনারা খান, আমাদেরকে খাওয়ান সর্বোপরি বাংলাদেশকে খাওয়ান।
এসময় সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান আরও বলেন, আল্লাহ না করুক, ধরেন সারা পৃথিবীতে কোথাও কোন ফসল উৎপাদন হলো না, তখন মানুষ কি টাকা বা ডলার খেয়ে বাঁচতে পারবে? যেমন সিঙ্গাপুরে ফসল উৎপাদন বন্ধ, তারা পানিটাও মালয়েশিয়া থেকে কিনে খায়। তাহলে সারা বাংলাদেশের সবচাইতে বড় সম্পদ হচ্ছে সোনার বাংলার কৃষক। এই কারনেই আমাদের মাননীয় কৃষকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরত্ন কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা এদেশে মজুরের অভাব ও আনুষঙ্গিক আরও বিভিন্ন বিষয় চিন্তা করে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের চেষ্টা করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন মৌসুমি বায়ু, ঝড়-বৃষ্টি ও নানা বিরুপ আবহাওয়ায় কৃষক যাতে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারে, এজন্যই তিনি কৃষকদের জন্য এই কম্বাইন হারভেস্টর মেশিন দিয়েছেন। সাভারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মোট ৮টি এই মেশিন দিয়েছেন। এগুলোর এক একটি ঘন্টায় একশত শতাংশ তথা দেড় বিঘা জমির ধান কেটে মাড়াই ও বাছাই করে বস্তা বন্দী করতে সক্ষম। এজন্য আপনারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাবেন এবং এই যন্ত্রগুলোকে নিজের মনে করে সতর্কভাবে ব্যবহার করবেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ এনামুর রহমান এমপি বলেন, কৃষি সারা বিশ্বে একটা গুরুত্বপূর্ণ খাত। কৃষি উৎপাদন নাহলে ডলার, পাউন্ড দিয়েও খাবার জুটবে না। আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সবার আগে প্রয়োজন অক্সিজেন ও পানি, এরপর খাদ্য। অক্সিজেন ও পানি আল্লাহ প্রদত্ত বিনামূল্যে পাওয়া যায়; কিন্তু খাদ্য উৎপাদন করতে অনেক পরিশ্রম হয়। এটা কৃষকেরা করেন। ২০-৩০ বছর আগে আমি অন্যান্য দেশে গিয়ে সেখানের গ্রামে দেখেছি তাদের চাষাবাদ, বীজ বপন, চারা লাগানো সহ ফসল কাটা, মাড়াই সহ সব কাজ যন্ত্রের সাহায্যে করছে। এসব দেখে আমার আফসোস হতো, ভাবতাম আমার দেশের কৃষকরা কবে এভাবে কাজ করতে পারবেন।
ডা. এনাম বলেন, আমার সে আশা পূর্ণ হয়েছে। আমরা মহান জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের একজন সুযোগ্য কন্যাকে পেয়েছি। যিনি চার চার বার প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাংলাদেশকে আধুনিকীকরণের জন্য কাজ করে শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছেন। এই কৃষির যান্ত্রিকীকরণের জন্য তিনি অনেক আগে থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাষাবাদ, বীজ বপন, ধান কাটা, মাড়াই সব মেশিনে হচ্ছে। আমাদের দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী ৫০ থেকে ৭০% ভর্তুকির মাধ্যমে এই যন্ত্র কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। হাজার হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দেওয়ার ফলে আজকে কৃষকরা স্বচ্ছল এবং উৎপাদনও অনেক বেড়েছে। তবে আমাদের জমি বাড়ে নাই, অনেক জমি শিল্প-কারখানা নিয়ে গেছে, তারপরও খাদ্যের নিরাপত্তা বাংলাদেশে নিশ্চিত রয়েছে। এই সিজনে আমাদের দেশে ২ কোটি ১০ লক্ষ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপন্ন হয়েছে যা আমাদের চাহিদার চেয়েও অনেক বেশী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাভার রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ প্রমুখ।
পরে, স্থানীয় কৃষক ইব্রাহিমের জমির ধান কাটা হয় কম্বাইন হারভেস্টর মেশিন দিয়ে। এই কাজের উদ্বোধন করেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এবং সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব।
বার্তাবাজার/পি