ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুটি খুনের ঘটনার পর নিমবাড়ি গ্রামজুড়ে এখন আতংক বিরাজ করছে। ২০১৭ সালের একটি খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নিমবাড়ি গ্রামে আরো একজন খুন হয়।
কাবিলের গোষ্ঠী ও পান্ডবের গোষ্ঠির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের জের ধরে পান্ডবের গোষ্ঠীর ২ জন খুন হয়। খুনের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর গ্রেফতার এড়াতে প্রতিপক্ষের বাড়িঘর পুরুষ শূণ্য হয়ে পড়ে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি পক্ষ গ্রাম জুড়ে ব্যাপক তান্ডব ও লুটপাট চালায়। এ সময় কাবিলা গোষ্ঠীর ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের শিকার হয়।
এ সময় হামলাকারীরা বাড়িঘরে মূল্যবান জিনিসপত্রের পাশাপাশি জমির ফসল কেটে নেয়ার পাশাপাশি গৃহপালিত পশুপাখিও লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তী হামলা ও লুট পাটের আশংকায় গ্রাম জুড়ে এখন আতংক বিরাজ করছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রতিপক্ষের হামলায় বসতবাড়ির অনেক স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভাংচুরের শিকার পরিবারগুলো এখনও আংতকের মধ্যে রয়েছে। প্রতিপক্ষ যে কোন সময় আবারও হামলা করতে পারে এমন আশংকায় বাড়িতে অবস্থানকারী নারী ও শিশুরা ভয়ের মধ্যে রয়েছে।
নিমবাড়ির গ্রামে লিনা বেগম বলেন, পুরুষ শূন্য গ্রামে আমরা ভয়ের মধ্যে রয়েছি। হামলাকারীরা মহিলা ও শিশুদেরকেও বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দোখাচ্ছে। আমরা স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে চাই। বৃদ্ধ রউফ মিয়া জানান, খুনের ঘটনার পর হামলাকারীরা আমার ১২ কানি জমির ফসল কেটে নিয়ে গেছে। আমি বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে আসে। আমি প্রাণ ভয়ে চলে আসি।
ওই বাড়ির মহিলা জমিলা খাতুন বলেন, নওয়াব মিয়া ও তার ছেলের নেতৃত্বে একদল হামলাকারী আমার বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। পরে তারা নগদ টাকা ও স্বর্ণ অলংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। আমার পাকা বিল্ডিংটির বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে ফেলে।
এ দিকে স্থানীয়রা জানান, দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে গ্রামের একাধিক গ্রুপ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এতে জড়িয়ে পড়ে। গ্রামের মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। গ্রামের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ ব্যাপারে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো: রইছ উদ্দিন বলেন, গত ১৩ মার্চ নিমবাড়ি এলাকায় গোষ্ঠীগত দন্ধের জেরে খুনের ঘটনায় মামলাও হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামীদের বাড়িতে কিছু লুটপাটের খবর পেয়েছি। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
মোঃ রাসেল আহমেদ/বার্তাবাজার/পি