গুপ্তচরের মাধ্যমে ধর্ষণ মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সপ্তম শ্রেণীর এক কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার একমাত্র আসামি মো. সুমন মোল্লাকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে গভীর রাতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গুপ্তচর নিয়োগ করে আলফাডাঙ্গার সীমান্তবর্তী পাশের গোপালগজ্ঞ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ব্যাসপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বেজিডাঙ্গা সেতুর উপর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মো. সুমন মোল্লা একজন কৃষক। তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রামের শের আলী মোল্যার ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং দুই ছেলের বাবা।

আজ রবিবার (৯ মে) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. জামাল পাশা।

এ সময় অন্যদের মধ্যে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ও ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দিলীপ কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

প্রেসব্রিফিংয়ে জামাল পাশা বলেন, গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি গ্রামের পুকুর থেকে গোসল শেষে বাড়ি ফেরার পথে সুমন মোল্লা ১৩ বছরের ওই শিশুটিকে একটি ঘাসক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ শেষে পালিয়ে যান। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনা খুলে বলে। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেন। এ ঘটনায় থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় মামলা হয়েছে।

বর্তমানে ওই কিশোরী বাড়িতে অবস্তান করেছেন। এছাড়া ওই কিশোরী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ ঘটনায় গত ১ মে ওই কিশোরীর মামা বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় মো. সুমন মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারায় ধর্ষণ দায়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এ মামলার আসামি একজন বিধায় সুমনকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে যদি তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রবিবার দুপুরেই সুমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম আহাদুল হাসান বলেন, ‘সুমন মোল্লা বেয়াদপ জাতীয় ছেলে। এর আগেও ওই এলাকায় সে এ জাতীয় দুটি ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে সে দু’টি ঘটনা নিয়ে মামলা হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ে শালিস দরবার করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়। এজন্য সুমনের সাহস দিনে দিনে বেড়ে যাওয়ায় সে একের পর এক এ জাতীয় ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছেন।’

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ফরিদপুর এর সমন্বয়কারী শিপ্রা গোস্বামী বলেন, এ মামলাটির আইনগত সহায়তা দেবে ব্লাস্ট।

১৩ বছরের এ কিশোরীকে ধর্ষণের এ ঘটনায় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী মানতাবাদীবাদী সংগঠণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জনমত গড়ে তোলা হয়। ধর্ষণের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর