বাংলা নববর্ষের বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য মানে মিষ্টি মুধুর পাকা আমের মৌসুম। সাতক্ষীরার মাটি, আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে উৎপাদিত আম গুনে মানে অনেক সুস্বাদু। এ জেলার পাকা আম দেশের সর্বত্র সুনাম অর্জন করে বিশ্ব বাজারে স্থান অর্জন করেছে। এ আম চাষ করে অনেক সাবলম্বী হয়েছেন।
সাতক্ষীরায় হিমসাগর, ন্যাংড়া, গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালি, মল্লিকা, গোলাপখাস, সিঁদুর রাঙ্গা, ফজলি, কাঁচা মিঠা, বোম্বাই, লতাসহ বিভিন্ন আম বেশি চাষ হয়। জেলার চাষিদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে উৎপাদিত গাছ থেকে আম সংগ্রহ করে ধাপে ধাপে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হয়। সাধারণত পরিপক্ক আম পাড়ার পর সেগুলো পাটের আশের তৈরী বস্তার উপর রেখে আঠা ঝরানো হয়। এরপর বাছাই করা আম প্লাস্টিকের বক্সে কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে বাজার যাত করা হয়। ট্রাকে করে এসব আম চলে যায় ঢাকা, খুলনা, চট্রগ্রাম সহ বিভিন্ন স্থানে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে কৃষকের আম কয়েক ব্যক্তির হাত বদল হতে থাকে। আর তাই উৎপাদিত আমের দাম বেড়ে যায়। এতে সঠিক দাম থেকে বঞ্চিত হয় কৃষক। সরাসরি আম রপ্তানির সুযোগ না থাকায় এই শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করেন কৃষক সহ সংশ্লিষ্টরা।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে এবছর সাতক্ষীরার ৫০০ মেট্রিক টন আম যাবে বিদেশে। আর তাই অনাবৃষ্টি, খরা, কালবৈশাখী, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুরারোগের কথা মাথায় রেখে এ বছর আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী পহেলা মে থেকে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগসহ আগামজাতের আম বাজারজাত করা যাবে। এছড়া ২১ মে থেকে হিমসাগর আম, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া আম ও ৪ জুন থেকে আম্রপালি আম বাজারজাত করা যাবে।
গতবছর আম পাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে যায় সাতক্ষীরার প্রায় সব আমবাগান। আম ও বাগান নষ্ট হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন আম চাষিরা। চলতি মৌসুমে তীব্র দাবদাহ ও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় এবার সাতক্ষীরার আম আকারে কিছুটা ছোট হয়েছে। তবে এবছর কোনো প্রাকৃতিক দুরারোগ্য না হওয়ায় গাছের ফল গাছে রয়েছে, এতেই খুশি চাষিরা।
তবে দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, কিছু অস্বাধু ব্যক্তির উচ্চ লোভের কারনে এই আম রপ্তানি শিল্প দেশী বিদেশী বাজারে চাহিদা কমতে পারে। কেননা অপরিপক্ক আম পাকাতে এবং আমের রং তৈরী করতে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর ক্যামিক্যাল। যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। মাঠে প্রশাসন তৎপর থাকার পরেও বিভিন্ন কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে যাচ্ছে এই অপকর্ম। আম ব্যাবসায়ী আব্দুর রশিদ জানান, বর্তমানে ১৬/২২টাকা মন দরে আম বিক্রি করছেন তিনি। তবে সময় মত বৃষ্টি না হওয়ায় আমের সাইজ অন্য বছরের তুলনায় ছোট।
অপর এক আম ব্যাবসায়ী সেলিম হোসেন জানান, আম পাড়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে কাজ করছি। সময় মত আম ঢাকায় পাঠাতে পারলে মোটামুটি লাভবান হব।
এদিকে, স্থানীয় বাজারে আম কিনতে আসা মোস্তাফিজুর রহমান আবুল হোসেন জানান, বাজারে যে আম উঠেছে দেখে মনে হয় ফরমালিন মেশানো। আমের ভিতরে এখনো ভালো ভাবে আটি শক্ত হয়নি। তাই আম না কিনে ফিরে যাচ্ছি।
তবে, স্থানীয় বাজারগুলোতে খুবই কম সংখ্যক পাঁকা আম উঠতে শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিন পরে প্রায় সব গাছে আম পাঁকা শুরু হবে। আর সে সময়ে স্থানীয় বাজারগুলো মিষ্টি সুগন্ধে ভরে যাবে।
দেবহাটা উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ মোহাম্মাদ তিতু মীর জানান, এবছর আমের ফসল মোটামুটি ভালো। আশা করি লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এবারও সফল ভাবে বিদেশে আম পাঠানো সম্ভব হবে। অস্বাধু ব্যক্তিরা যাতে আমে ভেজাল মেশাতে না পারে সে বিষয়টিও খেয়াল রাখা হচ্ছে।
সম্মলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই অপকর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে। একই সাথে নিরাপদ আম সরবাহ করার মাধ্যমে এই শিল্পকে আরো এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরাবাসি।
মীর খায়রুল আলম/বার্তাবাজার/পি