পাসপোর্টের অপেক্ষায় খালেদা জিয়ার যাত্রার সময় নির্ধারণ

আগামী দু একদিনে মধ্যে হাতে পাসপোর্ট পাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপরের দু একদিনের মধ্যে ভিসার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লন্ডনের হাইকমিশনে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেখান তেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, ব্যাংকক এবং দুবাই দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়েছে। এখন সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট দেশের ‘অনুমতি’ দেয় কি না সেদিকে তাকিয়ে আছে পরিবার ও দল।

জানা যায়, আগামীকাল সরকারের পক্ষ থেকে ‘আনুষ্ঠানিক’ অনুমতি পাওয়া যেতে পারে। খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় গতকাল বাদ জুমা ঢাকাসহ সারা দেশে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এদিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সদ্য করোনামুক্ত খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে তিনি পোস্ট কভিড জটিলতায় ভুগছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের করোনার কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। তাঁর ফুসফুস থেকে তরল জাতীয় পদার্থ (ফ্লুইড) দুই দফা অপসারণ করা হয়েছে। তাঁর ডায়াবেটিস এখন প্রায় নিয়ন্ত্রণে। তাঁর এখন দিনে ১-২ লিটার অক্সিজেন লাগছে। হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও বাড়ছে। এখন তিনি স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছেন।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতির বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বেগম জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার আবেদনের বিষয়টি সরকার মানবিকভাবেই বিবেচনা করছে। খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

জানা যায়, খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালে এবং এরপর আর এটি নবায়ন করা হয়নি। দুই দিন আগে তাঁর পক্ষে এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাসপোর্ট নবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। তবে এ ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশে এখন নাগরিকদের ই-পাসপোর্ট দেওয়া হয়। পুরনো পদ্ধতির মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট দেওয়া এখন একেবারে সীমিত করে আনা হয়েছে। ই-পাসপোর্ট করানোর জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট, চোখের স্ক্যান এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর সরবরাহ করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর পক্ষে এগুলো সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তাঁর ক্ষেত্রে এসব শর্ত শিথিল করে কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে পুরনো ধরনের মেশিন রিডেবল পাসপোর্টই নবায়ন করে দিচ্ছে। আজ-কালের মধ্যেই বেগম জিয়ার মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য কোন দেশে পাঠানো হবে তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে যুক্তরাজ্যকে অগ্রাধিকার দিয়েই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। খালেদা জিয়া ভিসার আবেদন করলে যুক্তরাজ্য সরকার সেটি বিবেচনা করে দেখবে বলে এক বার্তায় জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারের মুখপাত্র মেহের নিগার জেরিন।

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর