দরিদ্র কৃষকের দুটি মহিষ চুরি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের খাগোরবাড়ি গ্রামের কৃষক আখের উদ্দিন। একজন হতদরিদ্র কৃষক। অন্যের জমিতে কুড়েঘরে বসবাস করে আসছে। নিজের ভিটেমাটি বলতে কিছুই নাই। অনেক কষ্ট করে একমাত্র মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করে তুলছেন। মেয়ে এবার মাস্টার্সে একাউন্টিং এ অধ্যায়নরত। দুটি ছেলে রয়েছে। একজন ট্রাক্টর চালক,অপরজন ঢাকায় গার্মেন্টস এ অল্প বেতনে কাজ করেন। দুটি ছেলের উপার্জনের টাকায় মহিষ কিনেছিলেন। অনেক স্বপ্ন ছিলো। মহিষ দিয়ে টুকটাক যা আয় হয় তা দিয়ে সংসারের বাজার সদাই কিনেন। তাছাড়া মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ও সামাল দিতে হয়। একখন্ড জমি কিনতে হবে, একচালা বাড়ি করতে হবে। অন্যের বাড়িতে আর কতদিন। মেয়ের চাকুরি আর বিবাহ দিতে হবে। মেয়ে বড় হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে নিমিষে তাঁর দুটি মহিষ নিয়ে যায় ডাকাত দল। তাকে এবং তাঁর শ্যালককে বেঁধে মহিষ নিয়ে যায় ডাকাত দল।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১ টার দিকে, পিছন থেকে ডাকাতদল তাদের জিম্মি করে। সে ও তাঁর শ্যালক জালাল উদ্দিন দুজন গোয়াল ঘরের ছাপড়ায় শুয়ে ছিলেন।

প্রতিবেশি আমান আলী সরদার বলেন, আমার জমি হারোবাড়িয়া ভাটোপাড়ায় ২০০৯ সাল থেকে বসবাস করছেন কৃষক পরিবার। খুব দরিদ্র পরিবার। তাদের মত অসহায় পরিবার আর নাই।

মহিষ চুরি হওয়ায় বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন কৃষক আখের ও তাঁর মেয়ে রাখি। চোর না শোনে ধর্মের কাহিনী। কৃষক আখের এর চোখের পানিই হয়তো কাল হবে এসব চোর ডাকাতের জীবনে ।

স্থানীয়রা বলেন, মুজিববর্ষে সরকার ভূমিহহীনদের ঘর দিচ্ছে। আখেরের মত এমন অসহায় পরিবার ঘর পাবার যোগ্য। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি সুদৃষ্টি দিত এই হতদরিদ্র পরিবারের কষ্ট কিছুটা হলেও কমত।

রবিন খান/বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর