রকেটটি ১০ তারিখের আগেই আঘাত হানবে, ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশও
চীনের ফাইভ বি রকেটের ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি টুকরা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে। চলতি সপ্তাহের যেকোনো মুহুর্তে এটি আছড়ে পড়তে পারে পৃথিবীতে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, রকেটের ধ্বংসাবশেষ ১০ মে বা তার দুই-এক দিন আগে-পরে পৃথিবীতে পড়তে পারে।
তবে কখন পড়বে তা এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। আছড়ে পড়ার কয়েকঘন্টা আগে জানা যাবে তা। চীনা বিজ্ঞানীদের মতে এটি পড়তে পারে জনবহুল এলাকায়। আবার জলসীমায় পড়তে পারে বলেও তারা জানিয়েছে।
বিবিসির এক খবরে বলা হয়, মহাকাশে এই রকেটের ধবংসাবশেষ এখন পৃথিবী প্রদক্ষিণ করছে এবং এটি বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে ঢুকছে। যার মানে হলো, এটি পৃথিবীর চারদিকে বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে নিচের দিকে নেমে আসছে।
মার্কিন বিজ্ঞানীরা বছে, আমরা ধ্বংসাবশেষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছি। তবে সেটিকে গোলার আঘাতে ধ্বংস করে নিচে নামিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। আমরা আশা করছি যে, এটি এমন জায়গায় ধসে পড়বে যেখানে কারও কোনো ক্ষতি হবে না। আশা করি সমুদ্র বা এমন কোথাও পড়বে।
এদিকে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো)-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহমুদুর রহমান জানান, যে অরবিটে চীনের ফাইভ বি রকেটের ধ্বংসাবশেষ অবস্থান করছে সে অনুযায়ী বাংলাদেশে আপাতত পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে, যেকোনো সময় অরবিট পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
আর্থ অবজারভেটরি সিঙ্গাপুরের জেসন স্কট হেরিন বিবিসিকে বলেন, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমণ্ডল ক্রমেই ঘন হতে থাকায় রকেটের ধ্বংসাবশেষের বেশিরভাগ আগুনে পুড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে অংশগুলো পুড়বে না সেগুলো পৃথিবীতে ভেঙে পড়বে। যদি এসব কিছু অনিয়ন্ত্রিতভাবে হয়ে থাকে তাহলে কোথায় রকেটের ধ্বংসাবশেষ পুড়বে এবং কোথায় এসে পড়বে সেটাও নিয়ন্ত্রণ করা বা সঠিক পূর্বাভাসও দেওয়া যাবে না।
বার্তা বাজার/এসজে