মানিকগঞ্জে পৌরসভার নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্মাণ হচ্ছে ভবন

মানিকগঞ্জে পৌরসভার নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই নির্মাণ করা হচ্ছে কাজল কমপ্লেক্স নামের একটি বহুতল ভবন। চলছে জেলা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতিমূলক কাজ। আন্ডারগ্রাউন্ডের পার্কিং এর জায়গায় করেছেন শপিং সেন্টার। ভবনটির আশেপাশে রাখা হয়নি নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা।

শহরের প্রাণকেন্দ্র ও জেলা শহরের প্রধান রাস্তা শহীদ রফিক সড়কের আফরোজা রমজান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ভবনটি কয়েক বছর ধরেই নানা অনিয়ম ও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অদৃশ্য ক্ষমতা বলে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে ভবনটির নামে চলছে প্রতিবেশীদের মামলা।

মামলার বাদী হলিমা বেগম জানান, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে করে ভবনটির তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। অথচ গত মাসের ১ এপ্রিল মানিকগঞ্জ জেলা জজ আদালত পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ভবনটির কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সে নির্দেশ অমান্য করেই রাতভর চালু রেখেছে ভবনের কাজ।

মামলার বাদী আরো জানান, এর আগে ভবনটি নির্মাণকালীন সময়ে নানা অনিয়মের প্রেক্ষিতে অভিযোগ করলে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে এক তলা ভবন নির্মানের মুচলেকা দিয়েছিলেন হামিদুর রশিদ কাজল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ভবনটির আন্ডার গ্রাউন্ডের পার্কিং এর জায়গায় ভাড়া দেওয়া হয়েছে চাদের হাট নামের একটি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে, ভবনের দুই পাশে রাখা হয়নি পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী কোনো জায়গা।

পৌরসভার নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্মাণকৃত ভবন। ছবি-বার্তা বাজার

প্রতিবেশীদের অভিযোগ, ভবন করতে গিয়ে ভবন মালিক প্রতিবেশীদের সীমানার দেওয়ালটাও ভেঙে ফেলেছেন। ভূক্তভোগীদের চাপে রাখতে মামলার বাদি হালিমা বেগমের টয়লেট বরাবর স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। ভূক্তভোগীদের মামলা তুলে নিতেও দেওয়া হয়েছে হুমকি ধুমকি বলে তাদের অভিযোগ।

এছাড়াও একই স্থানে ২০০৯ সালে তিন তলা ফাউন্ডেশন করে ৫ তলা ভবন নির্মান করার পর তা হেলে পড়ে প্রতিবেশীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলেও অভিযোগ জানান মামলার বাদি হলিমা বেগম।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র মোঃ রমজান আলী জানান, আধুনিক শহর গড়তে পৌরসভার নিয়মনীতি অনুসরন করেই বাড়ি ঘর নির্মাণ করতে হবে। প্রতিটি ভবনের সাথে অবশ্যই গাড়ি পার্কিং এর জায়গা রাখতে হবে। অন্যথায় নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ভবনটির মালিক হামিদুর রশিদ কাজলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোনে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তর আলোচনা হবে। ফোনে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না।

বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর