চাঁদপুরে গৃহকর্মী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের কার মামলার প্রেক্ষিতে আসামি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আমজাদ মাহমুদ নিলয়কে মঙ্গলবার (৪ মে) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ দিন চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল রশিদ জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কবির হোসেন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আত্মগোপনে থাকা আসামি নিলয়কে গ্রেফতার করেন।
তিনি আরো জানান, আসামি নিলয়ের মা শাহনাজ বেগমেকে গত ৩০ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়েছে। একই মামলায় তার বাবা আব্দুল মাজেদ এখনও পলাতক রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদপুর শহরের ওয়ারলেস এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ বরকন্দাজের বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন, আব্দুল মাজেদ, শাহনাজ বেগম দম্পতি। তারা দুজনই চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এ কর্মরত। তাদের সন্তান আমজাদ মাহমুদ নিলয় রাজধানী ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন।
কিন্তু করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় চাঁদপুরের বাসায় অবস্থান শুরু করেন নিলয়। তার বাবা ও মা যখন কর্মস্থলে যান, তখনই সুযোগ বুঝে তার চেয়েও বেশি বয়সী গৃহকর্মী তরুণীকে একা পেয়ে ধর্ষণ করতেন তিনি।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী জানান, নিলয় নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে গত এক বছরে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন।
এই ঘটনার শিকার অসহায় ওই তরুণী নিলয়ের বাবা-মাকে এমন অনৈতিক কাজের অভিযোগ দিয়ে কখনো প্রতিকার পাননি। উল্টো তার ভাগ্যে জুটেছে অপবাদ আর মারধর।
সবশেষ বিচার না পেয়ে গত ৩০ এপ্রিল এমন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাসা থেকে পালিয়ে সড়কে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই তরুণী।
তবে স্থানীয়দের কারণে তা ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে ঘটনাটি জেলা পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদের নজরে পড়ে।
পরে জেলা পুলিশ সুপারে নির্দেশে সদর মডেল থানায় ঘটনার শিকার অসহায় ওই তরুণী নিলয় ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এরপরই পুলিশ প্রথমে অভিযান চালিয়ে ওয়ারলেসের বাসা থেকে নিলয়ের মা শাহনাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করে। তবে ওই সময় বাবা এবং ছেলে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত নিলয়কে আজ বুধবার চাঁদপুরের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার শিকার অসহায় ওই তরুণী তার প্রতিবন্ধী বাবার হেফাজতে আছেন। ইতিমধ্যে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ জানান, প্রয়োজনে নির্যাতিতার পাশে সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াবে পুলিশ। এছাড়া মামলার আরেক আসামিকেও খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
বার্তাবাজার/ই.এইচ.এম