‘সব কওমি জঙ্গি নয়, সকল জঙ্গিই কওমি’

রাষ্ট্রবিরোধী ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে নিজেদেরকে সুন্নি মতাদর্শে বিশ্বাসী দাবি করা সংগঠন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। এজন্য তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছেন।

রোববার (২ মে) রাতে সংগঠনের নেতারা রাজধানীর ধানমন্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে সরাসরি এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। বিষয়টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত।

স্মারক লিপিতে তারা বলেন, কওমি অঙ্গনের অতীত ইতিহাস তুলে ধরে স্মারকলিপিতে বলা হয়- এই কওমিরা আর জামায়াতিরাই একদিন ঘোষণা করেছিল- আমরা হবো তালেবান, বাংলা হবে আফগান। ইতোমধ্যে জাতির কাছে সুস্পষ্ট হয়েছে- সব কওমি জঙ্গি নয় কিন্তু সকল জঙ্গিই কওমি। জামায়াত-হেফাজতসহ কওমি সংগঠনগুলো আজ জঙ্গি প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারের এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে হবে।

তারা স্মারকলিপিতে জানান, উগ্র মতবাদ প্রচার-প্রসারের জন্যই ভারতের দেওবন্দ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কওমিরা সেই উগ্রপন্থী মাদরাসারই অনুসারী। গত প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে পাক-ভারত উপমহাদেশে তারা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে মুসলমানদের মধ্যে বড় ধরনের ধর্মীয় বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। বাংলাদেশে জামায়াত-হেফাজতীদের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে শান্তির ধর্ম ইসলাম সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে।

তারা বলেন, ২০১৩ সালে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব জাতি প্রত্যক্ষ করেছিল। বায়তুল মোকাররমে কোরআন শরীফে অগ্নিসংযোগ, বাসে-দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ করে, আশেপাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকার গাছপালা নিধন করে সেদিন এক নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এর সাথে ইসলামের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। ইসলামের দৃষ্টিতে কারও জান-মাল-ইজ্জতে আঘাত করা হারাম। সরকারের সময়োপযোগী সাহসী পদক্ষেপের কারণে জাতি সেদিন বিপদ থেকে রক্ষা পায়।

আন্দোলনের নামে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ তাণ্ডব চালিয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাষ্ট্রীয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট করে হেফাজতে ইসলাম। এসব কর্মকাণ্ড ইসলামসম্মত নয়, যদিও তারা ইসলামের হেফাজতের দাবিদার।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নির্বাহী মহাসচিব আ ন ম মাসউদ হোসাইনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ ফকির মুসলিম উদ্দিন আহমদ, মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, সৈয়দ মুহাম্মদ মোতাসিম বিল্লাহ রাব্বানী, যুগ্ম মহাসচিব কাজী আবু জাফর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এম এ মোমেন, সাংগঠনিক সচিব মুহাম্মদ আবদুল মতিন প্রমুখ।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর