অভিমান করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে কুড়িগ্রামে এক নববধূ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায়। মৃত ওই নববধুর নাম রুমি খাতুন (১৮)। সে উপজেলা সদরের চন্দ্রখানা কলোনী পাড়া গ্রামের স্যানেটারী মিস্ত্রি ইয়াছিন আলীর স্ত্রী এবং তিনি উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের বোয়াইল ভীড় গ্রামের রমজান আলীর মেয়ে। পাঁচ মাস আগে পারিবারিক বিয়ে হয় তাদের।
ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ জানান, সেহেরী খাওয়ার পড়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনে একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। সোমবার সকাল ৮টার দিকে প্রতিবেশি হাসিনা ভীলার আক্কাছ আলীর কাজের এক কিশোরী পানির লাইন মেরামতের জন্য ইয়াছিন আলীর বাড়ীতে আসে। এ সময় তাকে বাহির থেকে কয়েকবার ডাক দেন। সাড়া না পেয়ে দরজা খোলা থাকায় ঘরে ঢুকে স্ত্রীর পাশে শুয়ে থাকা ঘুমন্ত ইয়াছিনের হাত ধরে টানতে শুরু করে ওই কিশোরী। এ সময় ইয়াছিন আলী হাত ঝাঁকুনি দেয়। ঝাঁকুনি পেয়ে ওই কিশোরী টিনের বেড়ায় পড়ে যান। এতে টিনের শব্দ হয়। টিনের শব্দে পেয়ে জেগে উঠে স্ত্রী রুমি খাতুন। কোন কিছু বুঝে উঠার আগে ওই কিশোরীকে ঘরের ভিতর দেখে স্বামীর বিরুদ্ধে সন্দেহ করেন রুমি খাতুন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংসার করবেন না বলে বাড়ী থেকে বেড়িয়ে যান রুমি। পরে এলাকার মহিলারা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এর মধ্যে রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে ঘরে আড়ের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন সে। তার গোঙ্গানীর শব্দ পেয়ে ইয়াছিন আলীসহ বাড়ীর লোকজন বেড়া ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সাইফুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজীব কুমার রায় বার্তাবাজারকে জানান, ‘নিহতের সুরতহাল শেষে থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে সঠিক বিষয়টি জানা যাবে।’
সুজন মোহন্ত/বার্তাবাজার/ভিএস