ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের খাদুলী গ্রামের মোঃ খাদেমুল ইসলাম পেশায় একজন চাকুরীজীবী। চাকরির মাঝ পথে তিনি মারাত্মক ভাবে এক্সিডেন্ট হন।
অসুস্থতা জনিত কারণে মাত্র ২৩ বছর চাকরি করার পর স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন হার্টের সমস্যার কারণে ভারতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণের পর স্বপ্ন দেখেছিলেন বাড়িতে খামার করে একটু অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে।
সেই লক্ষ্যে তিনি নিজ বাড়িতে ৪৫×১৫ ও ৩০×১২ দৈর্ঘ্য প্রস্থের দুটি ঘরে ২৫ শত ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির খামার করেন। পাশাপাশি পাশ্ববর্তী এলাকা সাদির দহ ও নিজস্ব ২ একর পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। কিন্তু বিধি বাম, বৈশ্বিক করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে তাকে গুনতে হয় লাখ লাখ টাকার ক্ষতির হিসাব। খাদেমুল ইসলামের বড় ভাই মোঃ ছোরহাব আলী শেখ বাংলাদেশ যুব উন্নয়ন থেকে মাছ চাষের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দুই ভাই যৌথ ভাবে “মাছ ও মুরগি ” চাষে যুক্তহন।
উদ্যোক্তাগন জানান,মাছ চাষে তাঁরা প্রায় ৭ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এছাড়া মুরগি চাষে প্রায় ৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়।
সোমবার উদ্দ্যোক্তা খাদেমুল ইসলামের বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, বড্ড দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন খামারী পরিবার। পায়নি কোন সরকারী সহযোগীতা। পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে আছে খামার দুটি। এমত অবস্থায় প্রাণী সম্পদ কিংবা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে ঋণ সহায়তা পেলে আবারো ঘুরে দাঁড়াতে পারে ক্ষতিগ্রস্ত খামারী পরিবারটি।
খাদেমুল ইসলামের আক্ষেপ, তিনি একজন সরকারি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স। এখনো তার ১৫ বছর চাকরীর বয়স রয়েছে, তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ্য।
তিনি আরো বলেন, আমাকে পুনরায় চাকরিতে যোগদানের সুযোগ দিলে করোনা মহামারি ও চলমান দুর্যোগকালীন সময়ে মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। বিষয়টি তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তিৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
রাশেদুল হক/বার্তাবাজার/পি