ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গোসল করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার সেই কিশোরীকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হয়েছে।
রোববার (২ মে) বিকেল ৩টার সময় ওই কিশোরীর শারিরীক অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় তাকে হাসপাতালের গাইনি বিভাগ থেকে ওসিসিতে স্থানান্তর করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান দিলরুবা জেবা বলেন, ‘ওই কিশোরীকে মুমূর্ষু অবস্থায় এ হাসপাতালে আনা হয়। পরে তার অস্ত্রোপচার ও দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হয়েছে।’
এরআগে এ ঘটনায় শনিবার (১ মে) ওই কিশোরীর মামা আলফাডাঙ্গা থানায় মো. সুমন মোল্যা (২৫) নামে এক যুবককে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-০১। সুমন মোল্যা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রামের শের আলী মোল্যার ছেলে। তিনি বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা। সুমন মোল্লা একজন কৃষক।
এবিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওয়াহিদুজ্জামান বার্তা বাজারকে জানান, ‘অভিযুক্ত আসামিকে আটকের জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি গ্রামে মামাবাড়িতে থেকে ওই কিশোরী লেখাপড়া করেন। শুক্রবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় ওঁৎ পেতে থাকা সুমন মোল্লা তাকে পেছন থেকে গামছা দিয়ে মুখ চেপে ধরে পাশে ঘাস খেতে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাকে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে অসুস্থ ওই কিশোরী বহু কষ্টে বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের নিকট ঘটনাটি খুলে বলে। পরিবারের লোকজন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখতে পেয়ে তাকে দ্রুত আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
মিয়া রাকিবুল/বার্তাবাজার/ভিএস