পারিবারিক দ্বন্দ্বে সুবিধা না পেয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন প্রবাসীর

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমিজমাসহ নানাবিধ পারিবারিক দ্বন্দে বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশের কাছে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করতে না পেরে পুলিশ এবং প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী পরিবার।

গত ২৩ এপ্রিল দুপুরে একের পর এক ডাকাতি এবং নানাবিধ হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে এবং পুলিশকে জানিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোহাম্মদ আলী রেজোয়ান এবং তার ছেলে মোহাম্মদ আলী রিমনের পরিবার।

পরিবারটি অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে তাদের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় সংঘবদ্ধ ডাকাত দল লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এর দীর্ঘ কয়েক বছর পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারী চোরেরা তাদের আবাদি জমিতে সেচ দেওয়ার কাজে ব্যবহারিত মিটার চুরি করে নিয়ে যায়। এরপর মোবাইলে ফোন দিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।

সম্প্রতি রিমনের প্রবাসি বাবা মোহাম্মদ আলী রেজোয়ান বাসায় ফিরে এলে গত ২১ এপ্রিল ডাকাতদল তাদের বাড়িতে আবার হামলা চালায়। তারা তাৎক্ষণিক থানা পুলিশে খবর দিলেও আশানুরুপ সাড়া পাওয়া যায়নি।

আলী মোহাম্মদ রিমনের বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী জানায়, ২০১৪ সালে রিমনের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছিল। ডাকাতের উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার করলে গভীর রাতেই তার প্রতিবেশীরা ছুটে আসে এবং ডাকাত দলকে প্রতিহত করে। সেই সময় ডাকাত দল বেশ কিছু বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। তবে গত শুক্রবার তার বাড়িতে যে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে বলে রিমনের অভিযোগ, এই বিষয়ে প্রতিবেশী কেওই কিছু জানে না। কিংবা কোন চিৎকার বা ডাকাতি চেষ্টার কোন আলামত কেও দেখেনি। তবে কয়েকমাস আগে তাদের সেচ যন্ত্রের মিটার চুরি হয়েছে এবং পুলিশ এখনও পর্যন্ত মিটার উদ্ধার বা চোরকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি।

রিমনের নিকট আত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জানান, আলী মোহাম্মদ রিমনের সাথে তার চাচাতো ভাই লিয়ন রহমানের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয়ে গন্ডগোল চলছে। গত ফ্রেবুয়ারী মাসে আলী রিমনের সেচ ঘরের দেয়ালে তার চাচাতো ভাই লিয়ন রহমান নিজের ইট ভাটার দেয়াল লিখন বিজ্ঞাপন আর্ট করেন। কয়েকদিন পর লিয়ন মাটির কাঁদা দিয়ে তা মিশিয়ে দেয়। লিয়ন প্রথমবার নিজ বাড়িতে কর্মরত শ্রমিকের মাধ্যমে পানি দিয়ে কাঁদা তুলে দিলে আলী রিমন তা আবার কাঁদা মাটি দিয়ে মিশিয়ে দেয় এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করার পাশাপাশি লিয়নের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি দখল করার চেষ্টা করে। এ নিয়ে পারিবারিক ভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে লিয়ন রহমান থানায় অভিযোগ দেয়।

লিমনের করা অভিযোগের বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমরা উভয় পক্ষকে থানায় ডাকি । তবে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির এবং অর্থ প্রদানের মাধ্যমে অভিযোগের রায় নিজের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করেছিল আলী রিমন। তদন্ত পূর্বক অভিযোগের রায় লিয়নের পক্ষে যাওয়ায় আলী রিমন পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে।

ওসি আরো বলেন, শক্রবার রাত ২ টা ৫৮ মিনিটে মোবাইলে ফোন করে আলী রিমন জানায় তার বাড়িতে ডাকাত দল হামলা করেছে। থানা কমপ্লেক্স থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার ভাঙ্গা সড়ক অতিক্রম করে আমার ফোর্স রাত ৩টা ৩০ মিনিটে তার বাড়িতে হাজির হয়। তবে সেখানে ডাকাত দলের কোন আনাগোনা এবং ডাকাতি চেষ্টার কোন চিহ্ন ছিল না। তবুও সেদিনের পর থেকে প্রতিদিন রাতে একাধিবার আমাদের টহল টিম তার বাড়ির এলাকায় টহল দেয়। রিমনের সেচ যন্ত্রের মিটার চুরি হয়েছে এই ঘটনা সত্য। মিটার চোর চক্রটি খুবই সুকৌশলী। আমরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে চক্রটিকে শনাক্ত এবং দ্রুত সময়ে গ্রেপ্তার করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলী রিমনের বাড়ির পাশের একজন বলেন, সেদিন রাতে সেহরির জন্য কাফেলারা মাইকে ডাকাডাকি করছিল। মাইকের শব্দে সেহরির অনেক আগে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। এরমাঝে দেখি পুলিশের একটি গাড়ি আমাদের গ্রামে এসে রিমনের বাড়ির খোঁজ করছে। তবে সেদিন ডাকাতি হয়েছে, এমন কিছু আমি জানিনা। আমার বাড়ি রিমনের বাড়ির সাথেই। ডাকাতির ঘটনা ঘটলে অবশ্যই কোন শব্দ বা চিৎকার শুনতে পারতাম।

আলী রিমনের প্রতিবেশী এবং সিংড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) জিয়াউর রহমান বলেন, কয়েক বছর আগে তাদের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। এই কথা পুরো গ্রাম জানে। আমরা আমাদের জীবনের বাজি রেখে ডাকাত দলকে প্রতিহত করেছিলাম। তবে এক সপ্তাহ আগে তাদের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে, এই বিষয়ে গ্রামের কেওই কিছু জানে না। ডাকাত দল কোন দিক দিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলো আর কি কি ডাকাতি করে নিয়ে গেল! তা প্রবাসী পরিবারটিই ভালো জানি। তবে দীর্ঘদিন থেকে আমাদের গ্রামে চুরি ডাকাতির কোন ঘটনা ঘটেনি।

বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (হাকিমপুর সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিথুন সরকার জানান, ঘটনা স্থল আমি নিজে পরিদর্শন করেছি। সেখানে ডাকাতি বা ডাকাতি চেষ্টার কোন আলামত নেই এবং প্রতিবেশীরাও ডাকাতির বিষয়ে কিছুই জানে না। পারিবারিক কোন্দলে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে তারা সংবাদ সম্মেলন করেছে।

প্রবাসী ওই ব্যক্তির বাড়িতে নিরাপত্তা বেষ্ঠনী বলে কিছু নেই। ফাঁকা আবাদী জমির মাঝখানে তার বাড়ির অবস্থান। আমরা তার বাড়িতে ১০টি সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দিয়েছি এবং তাদেরকে নিজেদের বাড়ির চারপাশে নিরাপত্তা দেয়াল নির্মান করতে বলা হয়েছে। গত ১৪ সালে তাদের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ভয়েই তারা মাঝেমাঝে আতঙ্কিত হয়।

মোঃ লোটাস আহম্মেদ/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর