একখান ছাপরা ভাঙা ঘরে ৮ সদস্যের বসবাস

মোর তিন শতক জমি। মোর ভাল একখান ঘর নাই। ছাপরা একখান ভাঙা টিনের চালা। ওকনা চালায় চার মেয়েসহ মোট ৮ জন লোক একখান ঘরত থাকোং। রাত্রির বেলায় মোর ঘুম হয় না। বৃষ্টির দিনোত চালা দিয়ে পানি পরে। ঘরের কাঁথা-বালিশ সউগ (সব) ভিজে যায়।

শীতের দিনত বাতাস ঢোকে মোর ঘরে, ঠান্ডায় কাহারো নিন (ঘুম) হয় না। মুই তো মোর কষ্টের কথা গুলো চেয়ারম্যান-মেম্বারক কতবার কইছু। কাহ মোর কথা শুনে না। মুই সরকার থেকে যদি একখান ঘর পানুং হয় তাইলে বাকি জীবন টা একখান ঘরত কাটনুং হয়। এভাবে নিজের কষ্টের কথা গুলো বললেন পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের শিলাইকুঠি গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মো:বাবুল হোসেন(৪০)।

প্রায় দশ বছর থেকে দারিদ্র্যের কষাঘাতে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন তারা। এমন একটি জরাজীর্ণ টিনের চালায় বাস করেন অথচ সরকারি একটি ঘরের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি কেউ। দীর্ঘদিন থেকে চার কন্যা এক পুত্র স্বামী স্ত্রী,মা সহ মোট ৮ সদস্য একত্রে বসবাস করেন। বাবুলের দিন মুজুরির টাকা দিয়ে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে সংসার চলে। কিন্তু তার পরেও তার ভাগ্যে জোটেনি কোন সরকারি ভাতা, ভিজিডি কার্ড, কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারী ঘর।

পরিবারের ৮ সদস্যকে নিয়ে ভাঙা টিনের চালায় আতষ্কে নির্ঘুম রাত পোহাতে হয় তাদের। জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকতে সারাদিন পরিশ্রম করার পর রাতে একটু ভালভাবে ঘুমাবে, তবে সেখানেও নেই তার শান্তি। কারণ বৃষ্টি হলেই পানিতে ভরে যায় তার বিছানাপত্র। তবুও জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকার তাগিদে জরাজীর্ণ ভাঙা টিনের চালায় রাতভর ছটফট করে ৮ সদস্যেকে নিয়ে থাকতে হয় ওই ঘরে। সরকারি একটি ঘরের জন্য আকুতি জানায় ওই দম্পতি।

শনিবার ( ১ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় একটি ভাঙা টিনের চালায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টিনের চালাটি এই ঝড়-বৃষ্টির দিনে যে কোন সময় ভেঙে পরার আশষ্কা রয়েছে। আশ্রয়স্থল যদি ঠিক না থাকে তহালে দিন রাত পার করা খুব মুশকিল।

জীবনযাপন করার জন্য মোটামোটি ভালো আশ্রয়স্থলের একটি ঘর খুবই প্রয়োজন। ওই পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে গৃহ নির্মাণের ব্যবস্থা করে দিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন স্থানীয়রা।

এস.এম.আল-আমিন/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর